শিশু-বৃদ্ধদের চরম দুর্ভোগ, পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা; দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি এলাকাবাসীর
মোহাম্মদ গোলাম মোস্তাফা
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় ইউনিয়নের বীরগাঁও মাদ্রাসা বাড়ি এলাকায় সরকারি তিনটি কালভার্টের মুখে বসতবাড়ী নির্মাণ করায় দীর্ঘদিন পানি নিষ্কাশন বন্ধ থাকার কারনে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। টানা বর্ষণ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় এক মাস ধরে পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ৫০টিরও বেশি পরিবার। দুর্ভোগে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিনের জীবনযাত্রা যেন থমকে গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকার সরকারি তিনটি কালভার্টের পানি চলাচলের পথ সম্পূর্ণরূপে মাটি ও আবর্জনায় ভরাট হয়ে রয়েছে। ফলে বর্ষার অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। চারদিকে থইথই পানি। অনেক বাড়ির আঙিনা, রান্নাঘর এমনকি বসতঘরের আশপাশও পানিতে ডুবে রয়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগ নেমে আসে। তবে চলতি বছর টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পরিস্থিতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় এক মাস ধরে পানি জমে থাকলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে কোমলমতি শিশু ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষার্থী প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পানি পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। নিম্ন আয়ের পরিবারের রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় চুলা জ্বালানো পর্যন্ত দুষ্কর হয়ে উঠেছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে উঁচু স্থানে অস্থায়ীভাবে রান্নার ব্যবস্থা করছে।
দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় পচে যাওয়া আবর্জনা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে এলাকার বনজ, ফলজ ও সবজির বাগান পানিতে তলিয়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে পরিবেশ ও কৃষিতে অপূরণীয় ক্ষতি হবে।
ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় এক মাস ধরে পানি জমে রয়েছে। একদিন পানি কিছুটা কমলেও পরদিন আবার বৃষ্টিতে আগের অবস্থায় ফিরে আসে। তাদের মতে, কালভার্টের মুখ খুলে পানি চলাচল স্বাভাবিক না করা পর্যন্ত এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা অবিলম্বে কালভার্টের মুখ পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে বাট্টাজোড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লিটন আকন্দ বলেন, “বিষয়টি আমাকে অবগত করা হয়েছে। আমি উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। আশা করছি, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকাবাসীর একটাই প্রশ্ন—আর কতদিন পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হবে? দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে কয়েক ডজন পরিবারের এই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

