স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরের মেলান্দহে স্বর্ণের নেকলেস দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে। টাকা নেওয়ার পর স্ত্রী-সন্তানসহ ওই ইমাম আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযুক্ত মুহা. মিজানুর রহমান উপজেলার মালঞ্চ জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ ঘটনায় বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে ভুক্তভোগীরা মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে মিজানুর রহমান মালঞ্চ জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে যোগ দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে ব্যক্তিগত আর্থিক সংকটের কথা বলে এবং হংকং থেকে স্বর্ণের নেকলেস আসবে জানিয়ে কয়েকজনের কাছ থেকে তিনি টাকা নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বুধবার দুপুর পর্যন্ত মিজানুর রহমান মসজিদে নামাজ আদায় করেন এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করেন। এরপর থেকে স্ত্রী-সন্তানসহ তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, মক্তব শিক্ষক জুবায়েরের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ব্যবসায়ী ইমরানের কাছ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, জাহাঙ্গীর মাস্টারের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা, আব্দুল্লাহর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা, কাদেরের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং ইসমাঈল হোসেন রাজার কাছ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী মক্তব শিক্ষক জুবায়ের বলেন, তিনি বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোড ব্যবসার মূলধনের একটি বড় অংশ ওই ইমামকে দিয়েছিলেন। টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি এখন আর্থিক সংকটে পড়েছেন। প্রশাসনের কাছে টাকা উদ্ধারের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, মিজানুর রহমানের স্থায়ী ঠিকানা কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার উত্তর গাজিপুর এবং বর্তমান ঠিকানা ঢাকার যাত্রাবাড়ী। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলোতে একাধিকবার কল করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।
মালঞ্চ জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ইমামের ব্যক্তিগত অর্থ লেনদেনের বিষয়টি কমিটি আগে জানত না। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সভা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




