Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 15:23 pm
জামালপুর

ছাত্রত্ব নেই, শিক্ষকতা করছেন—তবুও জাবিপ্রবি ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মাসুদ

ছাত্রত্ব নেই, শিক্ষকতা করছেন—তবুও জাবিপ্রবি ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মাসুদ

জাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের নতুন ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এ কে এম আবদুল্লাহ আল মাসুদের ছাত্রত্ব না থাকা এবং শিক্ষকতা করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলেছেন সংগঠনটির কয়েকজন সহকর্মী। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত তদন্ত বা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

Advertisement

সম্প্রতি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাকিল আহমেদকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এরপর শাখাটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম আবদুল্লাহ আল মাসুদকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২২ আগস্ট রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে মাসুদকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অনুমোদিত ৩৭ সদস্যের জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদল কমিটিতে তিনি সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তবে দায়িত্ব পাওয়ার পরই তাঁর বর্তমান শিক্ষার্থী পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ কে এম আবদুল্লাহ আল মাসুদ ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে জাবিপ্রবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন এবং গণিত বিভাগে শিক্ষকতা করছেন বলে জানা গেছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের কেউ কেউ।

অনলাইনে পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের গঠনতন্ত্রের একটি কপিতে সংগঠনের সদস্যপদ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নাগরিক ও অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাই ছাত্রদলের সদস্য হওয়ার যোগ্য। একই গঠনতন্ত্রে বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের বিধানও উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে মাসুদের বিরুদ্ধে অতীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। তাঁর কয়েকজন সহকর্মী এ অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগটির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক তদন্ত প্রতিবেদন বা নির্ভরযোগ্য নথি পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি বর্তমানে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সোহান বলেন, “জাবিপ্রবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাকিল আহমেদ সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় তাকে বহিষ্কার করে ক্রমানুসারে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মাসুদকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব প্রদানের পরে তাঁর বিরুদ্ধে ‘কলেজে শিক্ষকতা এবং ছাত্রত্ব না থাকা’ সংক্রান্ত অভিযোগ আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুতই তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

ছাত্রত্ব না থাকা অবস্থায় একজন শিক্ষক কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব পেলেন—এমন প্রশ্নের পাশাপাশি সংগঠনের নিজস্ব গঠনতন্ত্রের সঙ্গে বিষয়টি সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো পৃথক ব্যাখ্যা বা সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে এ কে এম আবদুল্লাহ আল মাসুদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

এদিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে নতুন নেতৃত্ব আসার পর জাবিপ্রবি শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রম কোন পথে এগোয় এবং মাসুদের ছাত্রত্ব ও শিক্ষকতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংগঠন কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Advertisement