বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি||
জামালপুরের বকশীগঞ্জে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি পরিবারের মাঝে সরকার প্রদত্ত শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের বালিঝুড়ি কারিতাস কার্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে এ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবীবুর রহমান সুমন, ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাপ জামাল, স্থানীয় ইউপি সদস্যবৃন্দ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি।
মোট একশত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে এই শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। প্রতিটি পরিবারকে চাল, ডাল, চিড়া, গুড়, লবণ, তেল, বিস্কুটসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় শুকনো খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়।
খাবার পেয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সদস্যরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, এই সহায়তা দুর্যোগের সময় তাদের বড় সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, “বকশীগঞ্জ উপজেলা একটি দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল। এখানে প্রায় প্রতিবছর বন্যা, খরা, নদীভাঙন, পাহাড়ি ঢল ও বন্যপ্রাণীর আক্রমণে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকার এসব পরিবারের পাশে রয়েছে এবং থাকবে। আমরা প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছি ও সহায়তা প্রদান করছি। আজকের শুকনো খাবার বিতরণও তারই অংশ।”
তিনি আরও বলেন, “দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বরাদ্দ অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে শুধুমাত্র খাবার নয়, পর্যায়ক্রমে ঢেউটিন ও নগদ আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হবে।”
ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাপ জামাল বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে উপজেলা প্রশাসনের এই সহায়তা তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ভবিষ্যতেও যেন এই ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
স্থানীয়রা জানান, ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের বালিঝুড়ি, পাথারপাড়া, ভাটপাড়া ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির অনেক পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়ে। তাদের জীবনে নিত্যপ্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।




