স্টাফ রিপোর্টার||
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি চালুর দাবিতে জামালপুরে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার দুপুর ১১ টায় জামালপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জামালপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এই সভা আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক ড. ছামিউল হক ফারুকী।
সভাপতিত্ব করেন জামালপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুস ছাত্তার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামালপুর জেলা সভাপতি মুফতী মোস্তফা কামাল, এবং জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আব্দুল আওয়াল।
বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক যুগান্তকারী ঘটনা। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে জনগণ স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করে।
তারা বলেন, সেই আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা।
প্রধান অতিথি ড. ছামিউল হক ফারুকী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, এটি ছিল জনগণের আত্মত্যাগের প্রতীক। জনগণ চায় এমন একটি নির্বাচন ব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি ভোটের মূল্য থাকবে এবং সব মতের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।
তিনি বলেন,বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতাভিত্তিক ভোটব্যবস্থা প্রকৃত গণতন্ত্রের পরিপন্থী। পিআর পদ্ধতি চালু হলে প্রতিটি দল তাদের প্রাপ্ত ভোট অনুযায়ী আসন পাবে, এতে জনগণের মতামত সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে।
সভাপতি মাওলানা আব্দুস ছাত্তার বলেন,জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়ন মানে হচ্ছে অন্যায় ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যকে ধরে রাখা। আমাদের লক্ষ্য একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন, যেখানে ইসলামি মূল্যবোধ, মানবিকতা ও গণতন্ত্র একসঙ্গে বিকশিত হবে।
ইসলামী আন্দোলন জেলা সভাপতি মুফতী মোস্তফা কামাল বলেন, দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দূর করতে হলে জনগণের অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ইসলামী আন্দোলন সবসময় ন্যায়ের পক্ষে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আব্দুল আওয়াল বলেন, জুলাইয়ের চেতনা মানে কেবল সরকার পরিবর্তন নয়, এটি হচ্ছে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়নের অঙ্গীকার। আমাদের সবাইকে সেই লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে।
সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শেষে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে সভার সমাপ্তি হয়।




