নেত্রকোনার খালিয়াজুরী ধনু নদীতে বিয়ে বাড়ির স্পিডবোট ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ শিশু সামিয়ার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার পাচহাট গ্রামের ধনু নদীর কিনারা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সামিয়া (১১) একই এলাকার মাসুম মিয়ার মেয়ে।
এর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে ওই এলাকা থেকে আরও দুই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তারা হলো: একই এলাকার স্বপন মিয়ার শিশুকন্যা লায়লা (০৭) ও বর রানা মিয়ার বোন শিরিন (১৮)।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নোফায়েল মিয়ার মেয়ে উষামনির (৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাচহাট আন্ধার গ্রামের নবাব মিয়ার ছেলে রানা মিয়ার বিয়ে ঠিক হয় পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার মিরকা গ্রামে। শুক্রবার বিকেলে বরযাত্রী যাওয়ার কথা থাকলেও গ্রামীণ পার্বণ পানি কাটতে যান নারীরা। বাড়ির সামনে থেকে একটি স্পিডবোটে নারী শিশুসহ ১২ জন ওঠে।
পরে স্পিডবোটটি পাচহাট চরপাড়া গ্রামের মাঝামাঝি ধনু নদীতে ভিম জাল দিয়ে মাছ ধরার খোসা নৌকায় ওঠে পড়ে। এতে নৌকায় থাকা বাবা-ছেলে ক্ষিপ্ত হয়ে স্পিডবোট চালককে মারধর করতে বোটে লাফিয়ে ওঠেন। এ সময় ওই স্পিডবোটটি তলিয়ে যায়।
বোটে থাকা নারীরা তাদের শিশুদের বাঁচাতে মিনতি করলেও তারা না বাঁচিয়ে স্পিডবোটে চাপেন। এ সময় বোট ডুবে গেলে সাঁতরে আটজন অপর একটি নৌকায় বেঁচে উঠলেও বরের বোন শিরিন আক্তারসহ আরও তিন শিশু নিখোঁজ হয়।
এরপর খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় শনিবার সকাল থেকে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
ওইদিন দুপুরে এক শিশুর মরদেহ ভেসে ওঠে এবং আজ সকালে ও দুপুরে পাচহাট গ্রামের স্কুলের পাশে ধনু নদী থেকে বরের বোনসহ তিন মরদেহ উদ্ধার করে ডুবুরি, স্থানীয়রা ও স্বজনরা।




