বৃটেনের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি বিরোধী মন্ত্রী ও সিটি মিনিস্টার টিউলিপ সিদ্দিক অবশেষে পদত্যাগ করেছেন।
টিউলিপ তার পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন, মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব অব্যাহত রাখা সরকারি কাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন এবং বলেন, টিউলিপ তার দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা বজায় রেখেছেন। তবে বিদেশি সরকার কর্তৃক তদন্ত এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো তাকে নিয়ে বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।
টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে যে, তিনি তার খালা শেখ হাসিনার মিত্রদের কাছ থেকে লন্ডনের দুটি ফ্ল্যাট উপহার হিসেবে পেয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ফ্ল্যাটগুলোর বিষয়টি গোপন করে তিনি পার্লামেন্টের কাছে ভুল তথ্য দিয়েছেন। এ ছাড়া শেখ হাসিনার ক্ষমতার সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প চুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগে তার নাম উঠে আসে।
বৃটিশ মিডিয়া এই বিষয়গুলো নিয়ে ক্রমাগত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাদের মতে, টিউলিপ এবং তার পরিবারের বাংলাদেশি রাজনৈতিক সংযোগ তার মন্ত্রিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
টিউলিপ সিদ্দিকের পদত্যাগে লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়েছে। এর ফলে স্টারমারের জনপ্রিয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো লেবার সরকারকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করেছে এবং পূর্ববর্তী কনজারভেটিভ সরকারের সঙ্গে তুলনা করেছে।
টিউলিপ সিদ্দিকের পদত্যাগ বৃটেনের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। লেবার সরকারের সুনাম ও ক্ষমতায় টিকে থাকার সক্ষমতা এই ঘটনায় ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এখন দেখা যাক, এই বিতর্ক থেকে সরকার কতটা দক্ষতার সঙ্গে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
