বর্তমান সময়ে ডেঙ্গু একটি ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেশে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে এডিস মশার প্রজনন বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ে। ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস ইজিপ্টাই নামক মশার কামড়ে এই রোগ ছড়ায়।
তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রথম শর্তই হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ করা।
এডিস মশা ও ডেঙ্গু রোগ:
এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে। দিনের বেলায়, বিশেষ করে ভোর ও সন্ধ্যার সময় এ মশা বেশি কামড়ায়। ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে হঠাৎ উচ্চ জ্বর, চোখের পেছনে ব্যথা, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা, চামড়ায় র্যাশ ও রক্তপাতের প্রবণতা। যথাযথ চিকিৎসা না হলে ডেঙ্গু জটিল আকার ধারণ করতে পারে, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।
এডিস মশা নির্মূলে করণীয়:
১. বাড়ির ভিতরে ও বাইরে কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।
২. টব, ফুলদানি, ফ্রিজের ট্রে, এসির নিচের ড্রেন, পানির ট্যাংক ও ড্রাম নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
৩. পানির পাত্র ঢেকে রাখতে হবে এবং প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার সব পাত্র খালি করে ভালোভাবে শুকিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
৪. মশার প্রজননস্থল নষ্ট করতে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে ফগিং ও কীটনাশক ছিটানোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
৫. নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে।
৬. পলিথিন বা অন্যান্য আবর্জনা জমিয়ে রাখা যাবে না।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতা:
১. ফুল হাতা জামা-প্যান্ট ও জুতা-মোজা পরা উচিত।
২. মশারি ব্যবহার করতে হবে, বিশেষ করে শিশুদের জন্য দিনে ঘুমানোর সময়।
৩. ঘরে ও আশপাশে মশারি বা মশা নিধনের স্প্রে, কয়েল বা ইলেকট্রিক ব্যাট ব্যবহার করতে হবে।
৪. ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, নিজে ওষুধ না খাওয়া উচিত নয়।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশা নির্মূলের জন্য শুধু সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের উপর নির্ভর করলে হবে না, বরং আমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে এ ভয়াবহ রোগ থেকে সমাজকে রক্ষা করতে।




