ভালো দাম পাওয়ার আশায় প্রতি বছর কোরবানির ঈদ সামনে রেখে একদল অসাধু ব্যবসায়ি কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই গরু মোটা করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও রাসায়নিক মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ করেন। এতে গরুর শরীরে অতিরিক্ত পানি জমতে শুরু করে। গরুটির কিডনি, ফুসফুস, পাকস্থলী ও যকৃত নষ্ট হতে থাকে এবং গরুটি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে যায়।
কেমন গরু অসুস্থ বা রাসায়নিকযুক্ত?
• অস্বাভাবিক ফোলা: রাসায়নিক দেয়া গরুর শরীরের বিভিন্ন অংশ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকে। চাপ দিলে চামড়ায় গর্ত হয় এবং তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় নেয়।
• শরীরে পানি জমা: শরীর নরম ও থলথলে হয়ে যায়, বিশেষ করে পা ও পিঠে স্পষ্ট বোঝা যায়।
• নিষ্ক্রিয়তা: অতিরিক্ত ওজনের কারণে গরু চলাফেরা করতে চায় না। অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকে, বা ক্লান্ত দেখায়।
• ঝিমিয়ে থাকা: রাসায়নিক প্রভাবের কারণে গরু অলস হয়ে পড়ে, পরিবেশের প্রতি খুব একটা সাড়া দেয় না।
• শ্বাসকষ্ট: হঠাৎ হাঁপানোর মতো করে দ্রুত শ্বাস নেয়।
• লালা ঝরা: স্টেরয়েডযুক্ত গরুর মুখ দিয়ে ক্রমাগত লালা পড়ে।
• খাবারে অনীহা: মুখের সামনে খাবার ধরলে খায় না বা চিবানোর আগ্রহ দেখায় না।
• নাক শুকনা: সুস্থ গরুর নাক সাধারণত ভেজা থাকে, অসুস্থ হলে তা শুকিয়ে যায়।
• রঙ ফিকে: সুস্থ গরুর শরীরের রঙ উজ্জ্বল হয়, অসুস্থ গরু দেখতে বিবর্ণ লাগে।
• গরম শরীর: হাত দিয়ে গরুর গায়ে তাপ বেশি মনে হলে সেটি অসুস্থতার লক্ষণ।
কিভাবে চিনবেন সুস্থ গরু?
• চলাফেরায় চটপটে এবং সচল থাকবে।
• কান ও লেজ দিয়ে মশা-মাছি তাড়ানোর মতো স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া থাকবে।
• নাক থাকবে ভেজা, মুখে খাবার ধরলে আগ্রহ নিয়ে খাবে বা জাবর কাটবে।
• গরুর পিঠের কুজ হবে শক্ত, মোটা ও দাগমুক্ত।
• শরীরের গঠন ভারসাম্যপূর্ণ হবে, পাঁজরের হাড় স্পষ্ট বোঝা যাবে।
• গরুর রানের মাংস থাকবে টানটান ও শক্ত।
সঠিক পশু নির্বাচন কেবল ধর্মীয় বিধান মানার বিষয়ই নয়, বরং এটি স্বাস্থ্য সচেতনতাও নিশ্চিত করে।




