পাকিস্তান সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে হামলা চালিয়েছে। এই সামরিক অভিযানের নামকরণ করা হয়েছে ‘অপারেশন বুনিয়ান মারসুস’। সামরিক অভিযানগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের বিয়াসে অবস্থিত ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগারকে। পাকিস্তানের দাবি, ওই সংরক্ষণাগারটি পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ‘বুনিয়ান মারসুস’ নামটি কেন বেছে নেওয়া হলো?
‘বুনিয়ান মারসুস’ — অর্থ ও উৎস
‘বুনিয়ান মারসুস’ (بنيان مرصوص) আরবি শব্দ। এর অর্থ ‘দৃঢ় প্রাচীর’ বা ‘একতাবদ্ধ প্রাচীর’। নামটি নেওয়া হয়েছে পবিত্র কুরআনের সূরা আস-সাফ-এর ৪ নম্বর আয়াত থেকে। আয়াতটি হলো:
“নিশ্চয় আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন, যারা তাঁর পথে একতাবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করে, যেন তারা সীসাঢালা প্রাচীর।”
পাকিস্তান সামরিক অভিযানটিকে এই নাম দিয়ে তাদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি ও সামরিক অবস্থানকে তুলে ধরতে চেয়েছে।
কেন এই নামকরণ?
এই নামকরণের পেছনে দুটি দিক রয়েছে — একদিকে ধর্মীয় রেফারেন্স, অন্যদিকে সামরিক শক্তির প্রদর্শনী। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী প্রায়শই সামরিক অভিযানের নামকরণে ধর্মীয় রেফারেন্স ব্যবহার করে। এটি জনমনে প্রভাব ফেলার পাশাপাশি সৈন্যদের মনোবল বৃদ্ধিতেও সহায়ক।
অন্যদিকে, ভারতের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই সামরিক অভিযানে ‘দৃঢ় প্রাচীর’ শব্দটি ব্যবহার করে সম্ভবত পাকিস্তান বোঝাতে চেয়েছে যে, তারা ভারতের আক্রমণের জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত এবং তাদের সামরিক অবস্থান অটল।

