Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 16:57 pm
মুক্তদেশ

গণভোট এড়িয়ে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটলে প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি: মিয়া গোলাম পরওয়ার

গণভোট এড়িয়ে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটলে প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি: মিয়া গোলাম পরওয়ার

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য জনাব মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘আজকের রাজনীতির প্রধান প্রশ্ন হলো, দেশের মূল সংকট কোথায়? ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার ও সংসদ গঠিত হলেও জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। কিন্তু গত পাঁচ মাসে দলীয়করণ, দুর্নীতি, অর্থপাচার ও ভিন্নমতের ওপর নিপীড়ন যেভাবে ফিরে আসছে, তাতে প্রশ্ন জাগে, আমরা কি আবারও সেই পুরোনো অন্ধকারে ফিরে যাচ্ছি?’

তিনি বলেন, ‘যে দলীয়করণ ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে রক্ত দিয়েছি, হাজারো মানুষ জীবন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, সেই একই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটে পাঁচ কোটি মানুষ ৮৪ দফা সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে রায় দিয়েছেন। এই গণভোট জনগণের সরাসরি রায়ের প্রতীক, যা যে কোনো সংসদীয় আইনের চেয়েও শক্তিশালী। সুতরাং গণভোটে দেওয়া জনগণের রায় বাস্তবায়ন করতেই হবে।’

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০২৬) বিকেলে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমিতে দিনাজপুর জেলা ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোট: জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকারের দায় ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দিনাজপুর জেলা আমীর অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি, রংপুর জেলা আমীর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী এমপি এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘অনেকে দাবি করছেন, এই সংস্কার ও গণভোটের সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। কিন্তু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশের মাধ্যমে নির্বাচন, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের আইনি কাঠামো নির্ধারিত হয়েছিল। আমাদের সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশ আইনের মর্যাদা লাভ করে। তদুপরি, সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ। আর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের যে অভিপ্রায় প্রকাশ পেয়েছে, সেটিই সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে।’

তিনি বলেন, ‘আজ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব এড়িয়ে কেবল সাধারণ সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাইছেন, যা জুলাই সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, গণভোটে দেওয়া জনগণের পাঁচ কোটি ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় এবং ৮৪ দফা সংস্কার প্রস্তাব অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দলীয় নিয়োগ বন্ধ করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণভোটের গণরায় এড়িয়ে গিয়ে পুনর্গঠিত ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটার যে কোনো অপচেষ্টাকে সংসদ ও রাজপথে তীব্র গণপ্রতিরোধের মাধ্যমে প্রতিহত করা হবে।’

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সাম্য, ইনসাফ ও জনগণের জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের এই লড়াইয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

Advertisement