ক্রীড়া প্রতিবেদক : আইয়ুব বুয়াদ্দি (মরক্কো) – মাঝমাঠের ১৮ বছরের ‘প্রফেসর’
মাত্র ১৮ বছর বয়সেই ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়েছেন আইয়ুব বুয়াদ্দি। ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলগুলোর হয়ে খেলার পর পারিবারিক শিকড়ের টানে মরক্কোকে বেছে নেন তিনি। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক মাস আগে জাতীয় দলে অভিষেক হলেও মাঠে তার পরিণত পারফরম্যান্স দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে, তিনি এখনও কিশোর।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঝমাঠে অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ দেখিয়ে আলোচনায় চলে আসেন বুয়াদ্দি। নিখুঁত পাসিং, দুর্দান্ত বল দখল, চাপের মুহূর্তে শান্ত থাকা এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতার কারণে সতীর্থরা তাকে ডাকতে শুরু করেন ‘প্রফেসর’ নামে।
ফ্রেঞ্চ ক্লাব লিল-এর একাডেমি থেকে উঠে আসা এই বিস্ময় বালক মাত্র ১৬ বছর বয়সে ফরাসি লিগে অভিষেক করেন। এরপর ১৭ বছর বয়সে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স করে তিনি ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর নজরে আসেন।
পুরো বিশ্বকাপজুড়ে মরক্কোর মাঝমাঠের প্রাণভোমরা ছিলেন বুয়াদ্দি। তার দূরদর্শী পাস, আক্রমণ গড়ে তোলার দক্ষতা, বল কেড়ে নেওয়ার সামর্থ্য এবং অসাধারণ ম্যাচ-রিডিং মরক্কোকে টুর্নামেন্টের অন্যতম চমকপ্রদ দলে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি ম্যাচেই তিনি দলের ছন্দ ধরে রাখেন এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মতো নেতৃত্ব দেন।
বিশ্বকাপ শেষে ইউরোপের একাধিক শীর্ষ ক্লাব তাকে দলে ভেড়াতে আগ্রহ দেখায়। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আইয়ুব বুয়াদ্দি আগামী এক দশকে বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হওয়ার সামর্থ্য রাখেন। তার শান্ত স্বভাব, অসাধারণ ফুটবল বুদ্ধিমত্তা এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ইতোমধ্যেই তাকে মরক্কোর ফুটবলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
