বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ বলে জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
‘জনগণ সঙ্গে থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই আমাদেরকে পরাভূত করতে পারবে না’- উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামীতে জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘শিক্ষা সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে।
শনিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শিক্ষকদের জাতীয় সম্মেলনে লন্ডন থেকে অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, রাষ্ট্র ও রাজনীতির সংস্কার কিংবা নাগরিক উন্নয়নে আমরা যত উদ্যোগই গ্রহণ করি না কেন, চূড়ান্ত সফলতা পেতে হলে অবশ্যই শিক্ষা ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং শিক্ষকদের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।’
জীবনের শুরুতেই পরিবারের পর শিক্ষার্থীদের সামনে শিক্ষক-শিক্ষিকারাই আদর্শ রোল মডেল- একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষকরাই যদি রাষ্ট্র ও সমাজে সম্মান-সংসার নিয়ে টানাপোড়েনে থাকেন, তাহলে একজন শিক্ষকের পক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেকে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন কিভাবে সম্ভব!
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, শিক্ষক-শিক্ষিকারা যাতে শিক্ষার্থীদের সামনে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেকে একজন রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন, সেই শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে রাষ্ট্র এবং সরকারকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
শিক্ষকতা পেশা কখনোই ‘উপায়হীন বিকল্প’ কিংবা একটি সাধারণ চাকরি নয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শিক্ষা-দীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবী মানুষটি যাতে শিক্ষকতা পেশাকেই আনন্দের সঙ্গে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন, তেমন পরিবেশ পরিস্থিতি নিশ্চিত করা রাষ্ট্র এবং সরকারেরই দায়িত্ব। অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা, স্বাচ্ছন্দময় এবং সম্মানজনক জীবন-মানের নিশ্চয়তা প্রদানের মাধ্যমে বিশেষ করে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল শিক্ষকের চাকরিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক, লোভনীয় এবং আকর্ষণীয় করে তোলা জরুরি বলেও তিনি মনে করেন।
তারেক রহমান বলেন, পলাতক স্বৈরাচার ইচ্ছেমতো কাটাছেঁড়া করে রাষ্ট্রীয় সংবিধানকে প্রায় দলীয় সংবিধানে রূপ দিয়েছে। একইভাবে নির্বাচন কমিশন কিংবা দুদকের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অকার্যকর করে দিয়েছে। দুদককে নখদন্তহীন বাঘে পরিণত করা হয়েছে। এমন বাস্তবতায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন কমিশন, দুদক এবং সংবিধান সংস্কারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি এবং অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের সংস্কার কর্যক্রমের সঙ্গে দু’একটি বিষয়ে কিছুটা প্রক্রিয়াগত ভিন্নমত থাকলেও মৌলিক কোনো বিরোধ নেই।
তিনি বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, বিএনপি সংস্কার এবং নির্বাচন দ’টিরই পক্ষে। দু’টিই জরুরি। ‘সংস্কার নাকি নির্বাচন’ কেউ কেউ এমন উদ্দেশ্য-প্রণোদিত প্রশ্ন নিয়ে কূটতর্ক করার অপচেষ্টা করলেও দেশে বিরাজমান পরিস্থিতি কিন্তু ভিন্ন। দেশে কোটি কোটি পরিবারের কাছে এই মুহূর্তে ‘নির্বাচন এবং সংস্কারে’র চেয়েও ‘সংসার’ পরিচালনা করাই গুরুত্ত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে দ্রবমূল্যের উর্দ্ধগতি, অপরদিকে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ভ্যাটের বোঝা। ফলে দেশের কৃষক শ্রমিক দিনমজুর স্বল্প আয়ের মানুষ, এমনকি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর কাছে সংসার টেকানোই দায় হয়ে পড়েছে।’
তারেক রহমান বলেন, অনেক পরিবারে নীরব হাহাকার চলছে। কীভাবে জনগণের নিত্যদিনের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করা যায়, বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দ্রব্যমূল্য জনগণের হাতের নাগালে রাখা যায়, জনগণকে ফ্যাসিস্ট আমলের মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই দেওয়া যায় এবং কীভাবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে আরও সক্রিয় করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়- এসব প্রশ্ন উত্থাপন করে তিনি জানান অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে অগ্রাধিকারের তালিকায় এই বিষয়গুলো থাকা অত্যত্ম জরুরি।
মুক্তকাল/এসআর




