Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 23:07 pm
অন্যান্য

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন কঠোর নজরদারি

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন কঠোর নজরদারি

অধ্যাপক খালিদ বিন আমিন ||

আমাদের দৈনন্দিন  জীবনে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির ও দুর্মূল্যের অসম বাজারে, আসন্ন রমযানকে কেন্দ্র করে মসুর ডাল ও ছোলার দাম বাড়ার আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। আসছে মার্চের প্রথম সপ্তাহে শুরু হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম ইবাদতের মাস মাহে রমযান। আর মাত্র ৩৭ দিন, এর আগেই দেশের সর্বত্র, বাজার ও বন্দরে বাড়তে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য। সরকারের কঠোর হুঁশিয়ারির পরেও কোনো পণ্যের দাম কমছে না। প্রতি বছরই রমযানকে সমানে রেখে একটি কুচক্রী মহল সরব হয়ে ওঠে বাজার অস্থিতিশীল করতে।

Advertisement

সাধারণত ভারতবর্ষে ইফতার উৎসবে মোগল মুসলিম কালচারের একটি শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে। তেলজাতীয় ভাজা-পোড়া খাবারের প্রতি অভ্যস্ত এ অঞ্চলের মানুষ। সাধারণত রমযান মাসে খেজুর, ছোলা, চিনি, তেল সবচেয়ে বেশি চাহিদাপূর্ণ পণ্য। এছাড়া মৌসুমি ফল-ফলাদি ও পুষ্টির জন্য দুধের চাহিদা রয়েছে। বাজার অনুসন্ধানে জানা যায়, মসুর ডাল, ছোলার দাম বৃদ্ধির আশঙ্কার সাথে খেজুর ও ভোজ্যতেলের দামও বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

এছাড়া মুগ, খেসারি, ডাবলি, অ্যাংকর- এজাতীয় পণ্যগুলোও আমদানি  নির্ভর হওয়ায়, ডলারের দাম ওঠা-নামায় এর প্রভাব পড়ে বাজারে। পারিবারিক ও সামাজিকভাবে ব্যাপক ইফতার মাহফিল থাকায়, রমযানে বাড়তি চাহিদার ফলে খেজুর, ছোলা, মসুর ডাল, ভোজ্যতেল, চিনির চাহিদা অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি থাকে। প্রতিটি পণ্যই পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। কৃত্রিম সঙ্কট মোকাবিলায় রমযান শুরুর আগেই পর্যাপ্ত পরিমাণে আমদানি করা হয় এসব পণ্য। ইতোমধ্যে, সরকার শুল্ক-কর হ্রাস ও এলসি মার্জিন কমানো এবং বন্দরে দ্রুত পণ্য খালাসের ব্যবস্থাসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

এ ছাড়া দেশীয় পণ্য মুড়ি, মুরগি, ডিম, কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ, বেগুন, শশা, পুদিনা, ধনে পাতা ও লেবুর চাহিদা বাড়ে এ মাসে।

চলতি অর্থবছরের (২০২৪-২৫) প্রথমার্ধে ২.৫১ লাখ টন মসুর ডাল আমদানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৬১ হাজার টন বেশি।  ছোলা আমদানি হয়েছে ৪৮,৯৮০ টন, যা একই সময়ের তুলনায় ৩১,৫৩৪ টন বেশি। অধিক চাহিদার পণ্য দুটির আমদানি বেশি হওয়া সত্ত্বেও মজুদ এবং সরবরাহের প্রতি তীক্ষ্ম নজর রাখতে হবে।

অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি হয়েছে ৩.৮৪ লাখ টন, পামঅয়েল ৭.১১ লাখ টন। পরিশোধিত ও অপরিশোধিত চিনি আমদানি হয়েছে মোট ৬.৬৪ লাখ টন। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ লাখ টন কম।️

ইফতারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর উপাদান  খেজুরের আমদানিও আগের বছরের তুলনায় কম হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৫,৮৮৩ টন খেজুর আমদানি হয়েছে যা গত বছরের তুলনায় বেশ কম।

আমদানিনির্ভর পণ্যগুলোর জন্য গত নভেম্বর- ডিসেম্বরে খোলা এলসির পণ্য জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশে পৌঁছাবে। রমযান শুরুর আগেই সব পণ্য দেশে চলে আসবে।

মসুর ডালের দাম গত বছরের তুলনায় না বাড়লেও বর্তমানে ছোলা বিক্রি হচ্ছে গত বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি দামে। চিনির আমদানি কম হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমায় দেশের বাজারে গত বছরের তুলনায় ১২.২৮ শতাংশ কমেছে।

প্রতি বছর রমযানে ছোলা ও মসুর ডালের চাহিদা এক লাখ টন। খেজুর ৬০ হাজার টন, চিনি ও ভোজ্যতেল ৩ লাখ টন। পেঁয়াজের চাহিদা ৫ লাখ টন। ইফতারের বাহারি ঐতিহ্যের সাথে অধিকাংশ রোযাদার ছোলা পছন্দ করেন। মসুর ডালের চাহিদা সৃষ্টি হয় হালিমসহ অন্যান্য মুখরোচক খাবার তৈরির উপকরণ হিসেবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমতে থাকায় এবং সরকার আমদানি শুল্ক-কর কমানোয় আশা করা যায়, সিয়াম সাধনার এ পবিত্র রমযানে ভোজ্যতেলের দাম ভোক্তার নাগালের মধ্যেই থাকবে।

মসুর ডাল ও ছোলার দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, সরকার যদি পণ্য দুটোর মজুদ ও সরবরাহ তদারকি করে তবে অবশ্যই তার ইতিবাচক প্রভাব জনজীবনে পড়বে। ভুলে গেলে চলবে না, মাহে রমযান উপলক্ষ্যে আরববিশ্বের দেশগুলোতে পণ্যের মূল্যছাড়ে প্রতিযোগিতা চলে, এমনকী ইউরোপ আমেরিকার মতো অমুসলিম দেশগুলোর বড় বড় শপিং মলের ডিপার্টমেন্টাল স্টোর গুলোতেও চলে ছাড়ের ছড়াছড়ি।  আমরা ধর্মপ্রাণ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে ইসলাম চর্চা শুধু পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অন্য ভাইদের জীবনযাপন যেন সহজ হয় সে দিকে বিশেষ নজর রাখি, এর মাঝেই মানবতার কল্যাণ নিহিত।

লেখক : কলামিস্ট

 

  • নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত সম্পূর্ণভাবে লেখকের নিজস্ব। মুক্তকালের সম্পাদকীয় নীতিমালার প্রতিফলন থাকা আবশ্যক নয়।

 

 

 

Advertisement

Leave a Comment

Your email address will not be published.