কবীর আহমেদ,
সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি ।।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী ও মাদারগঞ্জ উপজেলার সংযোগস্থলে ঝিনাই নদীর ওপর নির্মিত শুয়াকৈর সেতু ভেঙে পড়ার ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো তা সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। ফলে দুই উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। স্থানীয়দের নিত্যদিনের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে; বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই হয়ে উঠেছে একমাত্র ভরসা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে শুয়াকৈর-হুদুর মোড় এলাকায় ঝিনাই নদীর ওপর প্রায় ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএইচ এন্টারপ্রাইজ ২০০৬ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে। তবে নির্মাণের মাত্র ১৪ বছরের মাথায় ২০২০ সালের ২১ জুলাই বন্যার প্রবল স্রোত ও নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে সেতুর দুটি পিলার ও গার্ডারসহ প্রায় ৬০ মিটার অংশ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
এর পর থেকেই সরিষাবাড়ী উপজেলার চররৌহা, চরনান্দিনা, বড়বাড়িয়া, বীর বড়বাড়িয়া, হেলেঞ্চাবাড়ী, স্বাধীনা বাড়ী, চর হাটবাড়ী, সিধুলী, চুনিয়াপটল, সিংগুরিয়া, ডিগ্রিপাজবাড়ী, খন্দকারবাড়ী, চর ছাতারিয়া, আদ্রাসহ আশপাশের এলাকা এবং মাদারগঞ্জ উপজেলার চর লোটাবর, শ্যামগঞ্জ কালীবাড়ি, সদরাবাড়ী ও রায়েরছড়াসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর দুই প্রান্তে সড়ক অক্ষত থাকলেও মাঝখানের ভাঙা অংশের কারণে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিন শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পারাপার করছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় শিক্ষার্থী নাঈম জানায়, আগে সেতু দিয়ে ১৫-২০ মিনিটে কলেজে যাওয়া যেত, এখন বিকল্প পথ ধরে যেতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। বর্ষাকালে নৌকায় ভিড়ের কারণে প্রায়ই সময়মতো ক্লাসে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে সেতুটি পুনর্নির্মাণে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা আজাদ মিয়া বলেন, “ভোটের সময় অনেক প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়, কিন্তু পরে আর কেউ খোঁজ নেয় না। বছরের পর বছর আমরা দুর্ভোগে আছি।”
সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় কৃষকরাও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষক আব্দুল মোতালেব জানান, উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজে বাজারে নেওয়া যায় না, ফলে ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষক ফরহাদ মিয়া বলেন, “এক ঘণ্টার পথ এখন চার ঘণ্টায় পাড়ি দিতে হয়। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি পরিবহন খরচও বেড়ে যাচ্ছে, ফলে লাভ কমে যাচ্ছে।”
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) গোলাম কিব্রিয়া তমাল জানান, সেতুটি পুনর্নির্মাণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সেতুটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।

