Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 18:18 pm
অন্যান্য

বকশিগঞ্জের চরাঞ্চলে বিস্তীর্ণ মাঠ যেন লাল গালিচায় মোড়া

বকশিগঞ্জের চরাঞ্চলে বিস্তীর্ণ মাঠ যেন লাল গালিচায় মোড়া

বকশিগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলজুড়ে এখন চোখে পড়ে এক অনন্য দৃশ্য। বিস্তীর্ণ মাঠ যেন লাল গালিচায় ঢেকে গেছে। মাঠে-ঘাটে, ক্ষেতের পাশে কিংবা খোলা জায়গাজুড়ে লাল রঙের যে আবরণ দেখা যাচ্ছে, তা আসলে শুকাতে দেওয়া মরিচের স্তূপ। কৃষকেরা ক্ষেত থেকে মরিচ সংগ্রহ করে ক্ষেতের ধারে বা মিলের চাতালে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বর্তমানে বাজারে মরিচের ভালো দাম থাকায় কৃষক-কৃষাণীরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মরিচ সংগ্রহ ও শুকানোর কাজে ব্যাপকভাবে যুক্ত হয়েছেন। ধান, গম, পাট ও ভুট্টার মতো অন্যান্য ফসলে যেখানে প্রতিবছর লোকসানের মুখে পড়তে হয়, সেখানে মরিচ চাষ কৃষকদের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছে। ফলে মরিচের লাল রঙের সঙ্গে কৃষকদের ভাগ্যও যেন রঙিন হয়ে উঠছে।
এ বছর বকশিগঞ্জ উপজেলায় ১৭০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও কৃষকদের আগ্রহে তা ছাড়িয়ে ১৮০ হেক্টর জমিতে মরিচ আবাদ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এসব জমি থেকে প্রায় ৫১৫ মেট্রিক টন শুকনা মরিচ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উপজেলার বাইরেও সরবরাহ করা হবে।
বাঙালপাড়া গ্রামের কৃষক মিনাল শেখ জানান, অন্যান্য ফসলে লোকসান হওয়ায় এখন অনেকেই মরিচ চাষের দিকে ঝুঁকছেন। এটি তাদের জন্য ঘাটতি পূরণের প্রধান ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে পরিবারের সবাই মিলে মরিচ সংগ্রহে প্রাণান্তকর পরিশ্রম করছেন তারা।
শেখপাড়া গ্রামের কৃষক নাজিম উদ্দীন বলেন, এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করতে বীজ, সেচ, নিরানী ও পরিচর্যা মিলিয়ে প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়। ওই জমি থেকে অন্তত ১৫ মণ মরিচ উৎপাদন সম্ভব। প্রতি মণ মরিচ ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি করলে বিঘাপ্রতি প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা লাভ করা যায়।
বর্তমানে বড় আকারের জলশই জাতের শুকনা মরিচ প্রতি মণ ৩,০০০ থেকে ৩,২০০ টাকা এবং ছোট আকারের বিন্দু জাতের মরিচ ৪,০০০ থেকে ৪,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারে ছোট হলেও বিন্দু মরিচ বেশি ঝাল ও উজ্জ্বল লাল হওয়ায় এর চাহিদা বেশি এবং দামও তুলনামূলক বেশি।
কৃষক সুবাহান আলী জানান, এ বছর পোকার আক্রমণে উৎপাদন কিছুটা কম হলেও ভালো দামের কারণে সেই ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তিনি আশাবাদী, মরিচ বিক্রির আয় দিয়ে তিনি তার একমাত্র মেয়ের বিয়ে দেবেন।
মরিচ সংগ্রহ ও শুকানোর কাজে স্থানীয় নারী ও শিশু-কিশোরদের ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। একজন শ্রমিক দিনে ৩ থেকে ৪ মণ মরিচ তুলতে পারেন এবং প্রতি মণে ১০০ থেকে ১৩০ টাকা হারে দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন।
এ বিষয়ে কৃষিবিদ আমিনুল ইসলাম জানান, মরিচের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। বকশিগঞ্জের উৎপাদিত মরিচের মান ভালো হওয়ায় এর চাহিদা দেশজুড়ে রয়েছে। অন্যান্য ফসলে লোকসান হলেও মরিচ চাষ কৃষকদের লাভের মুখ দেখাচ্ছে, ফলে এটি এখন একটি অর্থকরী ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।

Advertisement
Advertisement