Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 22:03 pm
অন্যান্য

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপটে অচল জামালপুর শহর, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপটে অচল জামালপুর শহর, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুর শহরের সড়কচিত্র এখন শৃঙ্খলার নয় বরং অব্যবস্থাপনার এক ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার লাগামহীন দাপটে প্রতিদিনই বাড়ছে যানজট ও জনদুর্ভোগ। অনিয়ন্ত্রিত গতি ও ট্রাফিক আইন উপেক্ষায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো পরিণত হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়।

শহরের ফিসারী মোড়, পাঁচ রাস্তা, জিলা স্কুল, হাসপাতাল , মেডিকেল রোড সহ রেলস্টেশন এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপট চোখে পড়ার মতো। হঠাৎ ব্রেক, যত্রতত্র মোড় ঘোরানো এবং বেপরোয়া গতিতে চলাচলের কারণে সড়কে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে এসব এলাকায় যানজট চরম আকার ধারণ করছে।

Advertisement

পথচারী নাজমুল হাসান বলেন, “এই রাস্তা পার হইতেই ভয় লাগে। অটোরিকশাগুলা কোনো নিয়ম মানে না। চলাচল করা এখন অনেক ঝুঁকিপূর্ণ।”

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারীরা। জিলা স্কুল মোড় ও মেডিকেল হাসপাতাল রোডে রাস্তা পার হওয়াই যেন ধৈর্য ও সাহসের পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশু, নারী ও বয়স্করা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও নিরাপদে রাস্তা পার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।

কলেজছাত্রী আরিফা আক্তার বলেন, “কলেজে সময়মতো পৌঁছাতে পারি না। রাস্তা পার হতেই অনেক সময় লাগে। একটু অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

নগরবাসীর অভিযোগ, অটোরিকশা চালকদের একটি বড় অংশের নেই বৈধ লাইসেন্স কিংবা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ। ট্রাফিক সিগন্যাল, একমুখী সড়ক কিংবা পথচারীর অধিকার সবই যেন উপেক্ষিত। অন্যদিকে রিকশা ও অন্যান্য যানচালকরাও বলছেন, সংকীর্ণ সড়কে অতিরিক্ত অটোরিকশার কারণে স্বাভাবিক চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বৃদ্ধ মমিনুল বলেন, “যানজটের কারণে রাস্তায় এপার থেকে ওপারে যেতে খুবই কষ্ট হয়।”

এই বিশৃঙ্খলার প্রভাব পড়ছে শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যেও। রেলস্টেশন ও গেইটপাড় রোডের বাজার এলাকায় যানজটের কারণে ক্রেতারা আসতে অনাগ্রহী হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী কুয়াশা বলেন, “যানজটের কারণে কাস্টমার আসতে চায় না। সারাদিন দোকান খোলা থাকলেও বিক্রি কমে গেছে। দ্রুত যানজট নিরসনের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি।”

এ বিষয়ে জামালপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, “পৌরসভার পাঁচটি পয়েন্টে আমাদের লোক দেওয়া আছে, যাতে লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইক শহরে প্রবেশ করতে না পারে।”

জামালপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন জানান, জামালপুরে ৬৫ জন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে।

Advertisement