স্টাফ রিপোর্টার:
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে হাফিজ মাসুম আহমদ নামের এক ইমামকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এশার নামাজের পর কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই মসজিদ কর্তৃপক্ষ তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়।
হাফিজ মাসুম আহমদের দাবি, টুকের বাজারে অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য দেওয়ার জেরে তাকে আকস্মিকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
তৈমুর নগর ভাঙ্গারপাড় ক্রাশারমিল জামে মসজিদের মুতাওয়াল্লি ফয়জুর রহমান বলেন, “আমরা সবাই মিলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” নোটিশ ছাড়া কেন তাকে অব্যাহতি দেওয়া হলো—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত, এককভাবে তিনি নেননি। রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে ইমামকে অপসারণ করা হয়েছে কি না—এ প্রশ্ন তিনি অস্বীকার করেন।
জানা যায়, ২০০৬ সাল থেকে হাফিজ মাসুম আহমদ ওই মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ইমামতির পাশাপাশি তিনি প্রতি বছর রমজানে তারাবির নামাজও পরিচালনা করতেন। এবছরও তারাবির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। তবে রমজানের চার দিন আগে কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই তাকে মসজিদ ছাড়তে বলা হয়।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী, জামায়াতে ইসলামীর জয়নাল আবেদীনের নির্বাচনি শেষ জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হাফিজ মাসুম আহমদ। তিনি খেলাফত মজলিসের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি বলেও জানা গেছে। ওই সভায় বক্তব্য দেওয়ার জেরেই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হাফিজ মাসুম আহমদ বলেন, “প্রায় ২০ বছর ধরে আমি এই মসজিদে ইমামতি করছি। কখনো কারো সঙ্গে কোনো সমস্যা হয়নি। কয়েক দিন আগে জামায়াতের নির্বাচনি সভায় বক্তব্য দেওয়ার পর আমাকে ইমামতি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। শনিবার এশার নামাজের পর মুতাওয়াল্লি আমাকে ডেকে বলেন, আগামীকাল থেকে আর মসজিদে আসতে হবে না।”
এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে
জামায়াতের নির্বাচনি সভায় বক্তব্য, চাকরি হারালেন ইমাম
Oplus_131072




