স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাট্টাজোড় কেরামতিয়া রিয়াজুল ইসলাম কামিল মাদরাসায় আজ ১৯ নভেম্বর (বুধবার) দুপুরে আলিম, ফাযিল ও কামিল ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অত্র মাদরাসার অধ্যক্ষ আলহাজ মাওলানা সুলতান মাহমুদ খসরু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শামছুল আলম।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন— খাতেমুল মঈন মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. মোঃ সফিউল্লাহ কাওসার,অত্র মাদরাসার সাবেক সহকারী অধ্যাপক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আফসার আলী,বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টির বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখা ও বকশীগঞ্জ খয়ের উদ্দীন ফাজিল মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মোঃ মোসাদ্দেকুর রহমান মানিক,মাদরাসার গর্ভনিংবডির সহ-সভাপতি মোঃ আল-মামুন সিদ্দিকী,এছাড়াও বিভিন্ন মাদরাসার সুপার ও অধ্যক্ষগণ।সভাপতি আলহাজ মাওলানা সুলতান মাহমুদ খসরু বলেন, “মাদরাসা শিক্ষা জাতির নৈতিক ও চারিত্রিক উৎকর্ষের মেরুদণ্ড। আধুনিক যুগের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার মানোন্নয়নে আমরা নিয়মিত কারিকুলাম আপডেট, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছি।” তিনি নতুন শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য-আদর্শে স্থির থেকে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পড়ালেখায় মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান।বক্তারা বলেন, এ মাদরাসাটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধারণ করে আসছে এবং কর্তৃপক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি নতুনভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তারা নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, “একসময় এই মাদরাসা ছিল অঞ্চলের আলোকবর্তিকা। এখন কর্তৃপক্ষ যেভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাতে পুরনো ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।”তাঁরা মাদরাসার সার্বিক অগ্রগতি, ক্যাম্পাস সংস্কার, একাডেমিক পরিবেশ সৃষ্টি, সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক-মানসিক বিকাশের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক দ্বীনি শিক্ষার উন্নয়নে সমন্বিত ভূমিকা রাখার আহ্বান করেন।ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শামছুল আলম বলেন,
“বর্তমান যুগ জ্ঞান-প্রযুক্তির যুগ। তাই আধুনিক শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি ইসলামী শিক্ষার ওপর দৃঢ় মনোযোগ দিতে হবে। একজন শিক্ষার্থীকে যুগোপযোগী হতে হলে দ্বীনি ও দুনিয়াবি উভয় জ্ঞানের সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।”তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার যে আধুনিক পাঠক্রম ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করেছে, মাদরাসার শিক্ষার্থীরা তার সুফল পাবে। তিনি শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম, নৈতিকতা, শিষ্টাচার ও সৃজনশীলতার পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।আলোচনা সভার শেষ পর্বে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয় এবং তাদের সফল ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়। দোয়া-মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।




