Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 15:13 pm
জামালপুর

বন্যার্তদের পুনর্বাসনে নিরলস তরুণ: বাঁশখালীতে নিজস্ব টিম নিয়ে কাজ করছেন জাবিপ্রবির শিক্ষার্থী সজরুল ইসলাম

বন্যার্তদের পুনর্বাসনে নিরলস তরুণ: বাঁশখালীতে নিজস্ব টিম নিয়ে কাজ করছেন জাবিপ্রবির শিক্ষার্থী সজরুল ইসলাম

নাইমুর রহমান, জাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বন্যাকবলিত প্রত্যন্ত জনপদে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী সজরুল ইসলাম। বন্যার তাৎক্ষণিক সহায়তার পর এবার তিনি নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে কাজ করছেন।

Advertisement

জানা যায়, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালীর কদম রসুল, খানখানাবাদ (রায়ছটা), ছাপাছড়ি, কাথারিয়া, ইলশা, ডোংরা, সরলসহ আরও বেশ কয়েকটি দুর্গম গ্রামে টিন ও শুকনা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন তিনি ও তাঁর স্বেচ্ছাসেবক দল। এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে পুনর্বাসন ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

বন্যার ভয়াবহ সময়ে সজরুল ইসলাম জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, বিভিন্ন মসজিদ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তহবিল সংগ্রহ করে বন্যার্তদের মাঝে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেন। পরবর্তীতে পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে তিনি এবং তার বন্ধুরা মিলে একটি স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করেন।

বর্তমানে তাঁর নেতৃত্বে ছয়টি দলে মোট ২৪ জন স্বেচ্ছাসেবক মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী, বিভিন্ন ফান্ড এবং চ্যারিটি গ্রুপের সহযোগিতায় সংগৃহীত অর্থ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য টিন ও শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

মুক্তকাল প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে সজরুল ইসলাম বলেন, “বন্যার পানি নেমে গেলেও মানুষের দুর্ভোগ শেষ হয়নি। অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অনেকেই এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। তাই আমরা শুধু ত্রাণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ না থেকে তাদের পুনর্বাসনের কাজেও যুক্ত রয়েছি। এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০টি পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে পেরেছি। যতদিন সামর্থ্য থাকবে, ততদিন মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।”

তিনি আরও জানান, পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং মানবিক মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। আরও বেশি মানুষের সহায়তা পেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে বৃহত্তর পরিসরে সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

স্থানীয়দের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক পরিবার এখনও পর্যাপ্ত সহায়তা পায়নি। এমন পরিস্থিতিতে তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ দুর্গত মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

Advertisement