জাবিপ্রবি প্রতিনিধি||
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্রদলসহ অন্যান্য সংগঠন, অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রয়েছেন নীরব দর্শকের ভূমিকায়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—এ কি প্রশাসনের নীরব সম্মতি নাকি অদৃশ্য চাপের কাছে আত্মসমর্পণ?
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল দোয়া মাহফিল ও মশা নিধন কার্যক্রমের আয়োজন করে।
এর আগে সংগঠনটি ক্যাম্পাসে আরও কয়েকটি রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করেছে বলে জানা গেছে।
শুধু ছাত্রদলই নয়, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরে ছাত্র ইউনিয়নের নামে দেওয়াল লিখনও দেখা গেছে। এছাড়াও গত ঈদুল আযহায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে ছাত্রশিবির গরু কুরবানি দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করে। এসব কর্মকাণ্ডেও প্রশাসনের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে প্রশাসন একসময় নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও সেটি শুধু নামমাত্র কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। বাস্তবে তা কার্যকর করতে প্রশাসন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. নুর হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়, ক্যাম্পাসের ভেতরে ও প্রাঙ্গণে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং কিংবা প্রচার কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, লোগো ও প্রতীক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করাও আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোহাম্মদ সাদীকুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নজরে এসেছে আগামী রবিবারে এবিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিব। এর আগে তাদের (ছাত্রদল) ডেকে নিয়ে বলে দেওয়া হয়েছিল অন্যান্যরা বাহিরে প্রোগ্রাম করে তোমরাও করো। কিন্তু তারা নির্দেশনা অমান্য করে এটা করেছে।
অনুমতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা একে তো নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছে অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে এ প্রোগ্রাম করেছে।
ছাত্রশিবির এর সদস্য হাফেজ মামুনুর রশীদ জানান, আমরা একটি রাজনৈতিক সংগঠনের আদর্শ লালন করি এবং প্রোগ্রাম করা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে আমরা যত প্রোগ্রাম করেছি সব প্রোগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন মেনে এবং শিক্ষার্থীদের চাওয়াকে প্রাধান্য দিয়েই করেছি। সুতরাং আমাদের দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অমান্য করার বিষয়টি মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। আমাদের কোনো ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম অথবা লোগো ব্যবহার করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভেতরে রাজনীতি নিষিদ্ধ তাই আমাদের সকল প্রোগ্রাম গেইটের বাহিরে করা হয়েছে।
অন্যদিকে ছাত্রদল আহ্বায়ককে বারবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।




