মোঃ মুজিবুর রহমান, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী কর্তৃক ক্ষমতা দখলের পর থেকে ভারতবর্ষে মুসলিম বীর সেনাপতি সৈয়দ আহমদ বেরলভী, নিসার আলী তিতুমীর, হাজী শরীয়তুল্লাহ, শাহ মখদুম, শাহ ইসমাইল শহীদসহ অসংখ্য শহীদদের আন্দোলনের ফলশ্রতিতে সিপাহী বিপ্লব, ফকীর বিদ্রোহ, স্বদেশী ও স্বাধীকার আন্দোলন গড়ে উঠেছিল বলেই বৃটিশরা ১৯০ বছর শাসন করার পর শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। সুলতান ইলিয়াস শাহের ঐক্যবদ্ধ বাঙলার শাসন থেকে নবাবী আমলে আবির্ভূত বাঙলার স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীন স্বত্তা প্রতিষ্ঠা পায়। কিন্তু উপনিবেশবাদী ষড়যন্ত্র ও বঞ্চনার শিকার হয় তার জনগোষ্ঠী। সেজন্য অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে জনগোষ্ঠির বিদ্রোহ, সংগ্রাম ও বিপ্লব। অথচ তৎকালীন হিন্দুদের একটি শক্তি বৃটিশ শাসনের শুরু থেকে শেষ অবধি তাদের সহায়তা দিয়ে বৃটিশ শাসনকে দীর্ঘায়িত করেছিল।
বৃটিশদের লুণ্ঠন, নিপীড়ন ও শোষনের প্রতিবাদে সমগ্র ভারতে ছোট বড় অসংখ্য অহিংস ও সহিংস আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সূচনা ঘটেছিল। বাংলা ভাষাভাষী সংস্কৃতি ও সভ্যতার উত্তরসূরী জনগোষ্ঠী এবং ধর্মীয় সহনশীলতা ও সহঅবস্থানে মিলিত হাজার বছর লালিত ধর্মীয় মূল্যবোধে সিঞ্চিত ও উজ্জীবিত বর্তমান বাংলাদেশের এইভূমি ও রাষ্ট্রে আমাদের জাতি ও ভৌগোলিক কাঠামো সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত ও ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে যার পুরো অংশ না পেলেও মূল অংশ আমরা পেয়েছি সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী ব্রিটিশ শাসকদের ক‚টব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্যদিয়ে। কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরিতে এগিয়ে গেলেও ভারত কিংবা পাকিস্তানে দরিদ্র, কৃষক, শ্রমিক প্রজা সাধারণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পরিবর্তে একটি রাজনৈতিক কায়েমী স্বার্থবাদী রাজনৈতিক এলিট শ্রেণীর সৃষ্টি হয় যারা সমাজকে বিভক্ত করে র্দীঘদিন শাসন ও শোষন করেছে। মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও সর্বদা এই এলিট শ্রেণীই দেশের দন্ডমুন্ডের কর্তা বনে গিয়েছিল।
বৃটিশদের বিদায়ের পর ভারতের রাজনীতি পরবর্তী সময়ে উগ্র সাম্প্রদায়িকতার খপ্পড়ে পড়ে এবং ভারতে আর. এস. এস. ও বিজেপির মতো জানা অজানা অসংখ্য হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের জন্ম হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় শুরু হয় বিভাজনভিত্তিক ঘৃণার রাজনীতি ও উগ্রবাদী তৎপরতার বীজ বপন, যা আজ হিন্দুত্ববাদী বিষবৃক্ষের বিকাশ ঘটিয়ে এতদঞ্চলে ফ্যাসিবাদী ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুরো সিস্টেম তৈরিতে এগিয়ে গেছে। অপরদিকে পাকিস্তানের রাজনীতি অসৎ, স্বার্থপর এবং অদূরদর্শী নেতৃত্ব ও বৈশ্বিক ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে সামরিক শাসনের মতো অরাজনৈতিক শাসনে শাসিত হয়। যার ফলে দেশে জনসাধারণের ইচ্ছে অনুযায়ী গণতন্ত্র ও জনকল্যাণের রাজনীতি উপেক্ষিত হতে থাকে। একদিকে ধর্মবিদ্বেষী বাম চিন্তা ও অন্যদিকে সুবিধাভোগী কিছু বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শে মুসলিম জাতিসত্তা বিলোপের আয়োজনে ক্ষমতাসীনরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং জাতি আবারো পথহারা হয়ে যায়। ফলে স্বাধীকার আদায় ও সকল প্রকার বৈষম্যের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে পাকিস্তানের সামরিক শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে লাখো প্রাণের বিনিময়ে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের সৃষ্টি করে।
ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব অনুসারে ১৯৪৭ সালে মুসলিম জাতিসত্তার পরিচয়ে দেশ ভাগ হয় বিধায় মুসলমানদের মধ্যে পরস্পরের রাজনৈতিক বিরোধকে পুঁজি করে ভারত আঞ্চলিক নিরাপত্তার অজুহাতে তার রাজনৈতিক শক্রকে নির্মূলের উদ্দেশ্যে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া অপেক্ষাকৃত দূর্বল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতি তার ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৫৩ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাই ভারতীয় আধিপত্যবাদের নগ্ন আগ্রাসন প্রকট হতে থাকে। স্বাধীনতার ঘোষক জেনারেল জিয়া এটা বুঝতে পেরে জাতিকে সঠিক পথে তোলা ও পরিচালনার উদ্যোগ নিলে দেশবিরোধী বিদেশী চক্রের এদেশীয় ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে তিনি শহীদ হন।
জেনারেল জিয়া হত্যার পর বাংলাদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সিভিল প্রশাসন, সামরিক বাহিনী, পুলিশ, আমলাসহ ব্যবসা বাণিজ্যের সকল ক্ষেত্রে আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী ভারত এককভাবে কর্তৃত্ব লাভের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে এবং এক্ষেত্রে জেনারেল এরশাদকে আগ্রহী দোসর রুপে পেয়ে যায়। মুসলিম জাতীসত্বা নির্মূলের এমন অপতৎপরতার ফলে মুসলিম জনগোষ্ঠী তাই শঙ্কিত হয়ে পড়ে।
ভারতীয় একাধিক থিং ট্যাংক দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিহাসের বিকৃতি ও আমাদের জাতিসত্তাবিরোধী সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে নতুন প্রজন্মকে স্থবির ও গোলাম বানানোর সবধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। অপতৎরতা চালায় ভারতের প্রতি বাংলাদেশের স্থায়ী নির্ভরতা সৃষ্টি ও বৃদ্ধিতে। নবাব সলিমুল্লাহ বাহাদুর, নওয়াব আলী চৌধুরী, শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা ভাসানীকে রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে মুছে দিয়ে কেবলমাত্র ক্রীড়নক শেখ মুজিবকে নিয়ে রাজনৈতিক ইতিহাস নির্মাণের ব্যর্থ চেষ্টা করা হয়।
পরবর্তীতে ভারতে প্রশিক্ষণ দিয়ে শেখ মুজিব তনয়া শেখ হাসিনাকে বেছে নেওয়া হয় বাংলাদেশের রাজনীতিকে এককভাবে নিয়ন্ত্রনের উদ্দেশ্যে। ধর্মীয় অসাম্প্রদায়ীকতার নামে দলীয় রাজনৈতিক সাম্প্রদায়ীকতার বিষ সমাজে ছড়িয়ে গণতান্ত্রিক বিরোধী পক্ষগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার অভ্যাসগত বাকশালী ফ্যাসিজম কায়েমের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সংস্কৃতিক সর্বগ্রাসী প্রচেষ্টা চলে পুরোদমে।
সমাজ ও দেশের মূল্যবোধ ও প্রতিষ্ঠানগুলো সমূলে ধ্বংস করা হয়। দেশের সংস্কৃতিতে একটি কাল্ট নির্মাণ করা হয় যার নাম “মুজিবীয় শুভেচ্ছা”। রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র” অনুপ্রবেশ করে মাত্রাতিরিক্ত প্রভাব সৃষ্টি করে দেশের সকল ব্যবসা বাণিজ্যের ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। নানারুপ আইন, নিয়ম, কালাকানুন ও শর্তারোপের মাধ্যমে ক্লেপটোক্রেটিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরির মাধ্যমে মুক্ত ব্যবসা বাণিজ্য ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলিত করে ছাত্র, শ্রমিক, জনগণের সমসুযোগের পথ রহিত করা হয়। যাতে জনগণকে তাদের দাস ও আজ্ঞাবহ করে রাখা সম্ভব হয়।
দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে ভারত নির্ভরশীল করতে থাকে এবং সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষের বিশ্বাসের বিপরীতে পৌত্তলিক সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে ভারত দেশের অধিকাংশ মানুষের বিরাগভাজন ও শত্রুতে পরিণত হয়। ভারতের তল্পীবাহক শেখ হাসিনার মাধ্যমে এদেশে তার লাভ ও স্বার্থের জন্য সর্বক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করে। ভারত মইনুদ্দীন-ফখরুদ্দীনের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে এবং বিডিআর মিউটিনি ঘটিয়ে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়ে এক গভীর ষড়যন্ত্রের সুচনা করে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেনাবাহিনী যাতে মাথা তুলে দেশ রক্ষার ভূমিকায় ঐক্যবদ্ধ ও সবল থাকতে না পারে তার জন্য দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি ও সদস্যদের প্রলোভনের জালে দূর্বল করতে থাকে।
২০০৮ সালে একটি রহস্যঘেরা নির্বাচনের মাধ্যমে ভারত এদেশে তার নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত করার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে। ভারতের আজ্ঞাবহ দল আওয়ামী লীগকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় রাখার স্বপ্নে দেশের সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে লোক দেখানো তিনটি অবৈধ ভোটার বিহীন নির্বাচন নগ্নভাবে সমর্থন করে জনগনকে বিদ্রোহী করে তোলে। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাকে ১৬ বছর অবৈধ ভাবে ক্ষমতায় রেখে একের পর এক অদৃশ্য অসম চুক্তির মাধ্যমে ভারত এ দেশকে তার তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে।
এ দেশের সাধারণ জনগণ তথা ছাত্র-শিক্ষক, কৃষক-শ্রমিক, শ্রমজীবী-পেশাজীবী শ্রেণী ও দেশপ্রেমিক সুশীল সমাজ বুঝতে পারে যে এদেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের মূলে রয়েছে ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও তার এদেশীয় দোসর যারা পরিকল্পিতভাবে এদেশের অধিকাংশ মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে পৌত্তলিকতার আদর্শ জোর করে চাপিয়ে দীর্ঘস্থায়ীভাবে রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠী সমাজের সর্বস্তরে ঘুষ, দুর্নীতি, অবিচার, খুন, গুম, ধর্ষণ, বিচারবহির্ভূত হত্যা চালিয়ে পুলিশ, সিভিল প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থাকে আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার মাধ্যমে মূলত স্থায়ীভাবে ফ্যাসিজম কায়েমের কার্যকরী ব্যবস্থা সম্পন্ন করে। পতিত স্বৈরাচার জণগনের একতাকে ভয় পেয়ে “ভাগ কর ও শাসন কর” বৃটিশ নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে দেশে সর্বক্ষেত্রে বিভাজন তৈরি এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে একটি যুদ্ধংদেহী গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সুষ্টি করে। নগর থেকে শহর এবং শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত এমনকি পাড়া-মহল্লায় ও বাড়ীতে বাড়ীতে তারা ভয়ের সংস্কৃতি চালু করে দেশের মানুষকে একটি চেতনা বিহীন জাতিতে পরিণত করার হীন চেষ্টায় মেতে উঠেছিল ।
এমন অবস্থায় দেশে বিরাজিত রাজনৈতিক দলগুলো গুম, খুন, জেল-জুলুম, বিচার বহির্ভূত হত্যাসহ সমস্ত অন্যায়-অত্যাচার সহ্য করে জনগণকে ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করার পরিবর্তে ফ্যাসিজমের সাথে সংঘাতে না জড়িয়ে নিজে নিজে আত্মরক্ষার কৌশল অবলম্বন করে ফ্যাসিজমকে দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সুযোগ করে দেয়। দেশের সর্বস্তরের জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাইলেও ভারতীয় ষড়যন্ত্র ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে তা সফলতা লাভ করেনি; রাজনৈতিক দলগুলোর ডাকে তাই জনগণ সাড়া দেয়নি। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলন ব্যর্থ হয়।
দেশের মানুষ উল্লেখিত পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদ উৎখাতে নেতৃত্বহীন অবস্থায় দিনাতিপাত করতে থাকে আর মহান আল্লাহকে ডাকতে থাকে। এমতাবস্থায় সংগঠন ও একক নেতৃত্ববিহীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-নেত্রীর যুগোপযোগী বুদ্ধিদীপ্ত, বিজ্ঞ, প্রাণময় আহবানে দেশের আপামর ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে আসে এবং প্রায় ২০০০ শহীদ ও ৫০ হাজার আহত ও পঙ্গুত্বের বিনিময়ে অবশেষে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসা সরকার প্রধানের পলায়নের পর আল্লাহর রহমতে দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়। আল্লাহর পরিকল্পনায় সংগ্রামী ও বিপ্লবী ছাত্রদের ডাকে ও নেতৃত্বে ছাত্র জনতার উদাহরণীয় আত্মত্যাগের বিনিময়ে সকল সীমালঙ্ঘন কারী, ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দোসরদের রক্ষার সমস্ত দেওয়াল তাসের ঘরের মতো ধসে, প্রলয় প্লাবনে ভেসে যায়। একই সাথে লুঠপাট, টাকা পাচার, হত্যা, গণহত্যা, গুম, খুন ও বিচার বর্হিভূত হত্যার বিরুদ্ধে এবং সকল ধরনের আধিপত্যবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ৫ই আগস্ট জনগণের সংগ্রাম বিজয় লাভ করে।
সর্বস্তরের মানুষ আবারও ইলিয়াস শাহী, সিরাজ উদ্দৌলাহসহ যুগে যুগে আন্দোলন প্রতিরোধ ও সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ৪৭, ৭১ ও ৯০-এর মতো একটি বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। বৈষম্যহীন সমাজ, ঘুষ, দূর্নীতি ও অবিচার মুক্ত সত্যিকার অর্থে স্বনির্ভর একটি দেশ এবং সৎ, সাহসী ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের শাসনে শাসিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা মানুষের মধ্যে জাগ্রত হয়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এক দেহ এক প্রাণ এই মূলমন্ত্রে “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ” এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মূল্যবোধ সংরক্ষণের শ্লোগানে সবাই জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সর্বস্তরের জনতা পুনরায় স্বপ্ন দেখা শুরু করে।
কিন্তু জুলাই বিপ্লবের ৪ মাস যেতে না যেতেই আজ আবার বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে কালো মেঘের ছায়া দেখা যাচ্ছে। ছাত্র জনতার নেতৃত্বে গনঅভ্যূত্থানের মাধ্যমে যে বিপ্লবের সূত্রপাত হয় তার চেতনা, লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের পরিবর্তে বিপ্লবের নায়কদের ফাঁসিতে ঝুঁলানোর চক্রান্ত শুরু হয়েছে।
প্রায় ২০০০ শহীদ ও ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) আহত ও পঙ্গুদের রক্তের দাগ না শুকাতেই ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি ও আধিপত্যবাদের কালো থাবা আবার ডালপালা বিস্তার শুরু করেছে। এর কারণ হিসেবে বলা যায় ফ্যাসিবাদ যে ধরনের বয়ান সৃষ্টি করে ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করেছিল ঠিক তেমনি একই বয়ানে ও চরিত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর আবির্ভাব দৃশ্যমান হচ্ছে। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর সীমাবদ্ধতাসহ ও অন্যান্য দলগুলোর ফ্যাসিবাদ নির্মূলের সুনির্দিষ্ট কর্মসূচির অভাবে পরস্পরের সহঅবস্থানের বয়ান মারফত জুলাই বিপ্লবের আশা আকাঙ্ক্ষাকে ধুলিস্যাৎ করে আবার ৪৭, ৭১ ও ৯০, এর মতো ২৪-এর বিপ্লবকে বেহাত করার প্রচেষ্টা চলছে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার নব প্রজন্মের নব যাত্রার পথ সংস্কারের মাধ্যমে যাতে উন্মুক্ত না করা যায় সেই চেষ্টা ও গতি থেকে রাষ্ট্রকে বিচ্যুত করার অপচেষ্টা চলছে।
চলছে বিভক্তির ইস্যু টেনে জাতিকে দিগভ্রান্ত করে পুরনো রাজনীতির কানাগলিতে ঠেলে দিয়ে লুটপাটের ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করতে। যথোপযুক্ত সংস্কার ব্যতীত রাজনৈতিক দলের শিগগিরই নির্বাচনের দাবি এবং ফ্যাসিজমের সৃষ্ট সঙ্কট নিরসনে দলীয় নেতৃত্বের গুণাগুণ নিয়ে জনমনে আবার প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বাধ্য করা হচ্ছে ছাত্র ও নব প্রজন্মকে রাজপথে নামতে এবং রাজনৈতিক শক্তির মুখোমুখি দাঁড়াতে। জিও পলিটিক্যালী বাংলাদেশেকে একশক্তি থেকে আরেক শক্তির কুক্ষিগত করার পথে রাষ্ট্রকে দূর্বল, পরাধীন ও পরাশ্রয়ী করে রাখার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে- যাতে হীন চতুর ইহুদীবাদী ও ডীপস্টেটগুলোর ষড়যন্ত্রের শিকারে পরিণত করতে বাংলাদেশকে বিভক্তি ও অস্থিতিশীলতার পাকে আটকে ফেলার চতুর অপপ্রয়াস বোঝা যায়।
এমতাবস্থায় রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বুদ্ধিজীবী শ্রেণী ও দেশপ্রেমিক ছাত্রজনতা মনে করে অতীতের ন্যায় ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবকে হারিয়ে যেতে দিলে দেশ আবার ৪৭, ৭১, ৯০-এর চেয়েও ভয়াবহভাবে পথহারা হয়ে যেতে পারে। বিপ্লবের নায়কদেরকেই বিচারের সম্মুখীন হতে হবে এমন লক্ষণ ক্রমান্বয়ে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। সুতরাং আধিপত্যমুক্ত স্বাধীনতার সংরক্ষণ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ১৮ কোটি মানুষকে একটি আত্মনির্ভরশীল জাতিতে পরিণত করতে ৪৭, ৭১ এবং ৯০-এর মত জুলাই ২৪-এর বিপ্লবের চেতনাকে ধারণের মাধ্যমে নতুন এক রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বিনির্মাণ অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে।
নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের মূল কথা হবে পূর্বের ব্যবস্থা ঝেড়ে ফেলে নব আশা আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আগামীর জ্ঞানভিত্তিক আত্মনির্ভর, গর্বিত শক্তিশালী সমাজ ও রাষ্ট্র বির্নিমানের লক্ষ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞানমনষ্ক নব প্রজন্ম দ্বারা পরিচালিত ন্যায় ও মূল্যবোধভিত্তিক ব্যবস্থা। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বাস্তবায়নের জন্য একদল সৎ, সাহসী, দেশপ্রেমিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা আজ তীব্রভাবে দেখা দিয়েছে। রাজনীতি নিয়ে ব্যবসার পরিবর্তে রাজনীতিকে জনসেবায় পরিণত করা আজ সময়ের সর্বশ্রেষ্ঠ দাবি।
রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে রাজনৈতিক দলকে গঠণতন্ত্র অনুযায়ী একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে না পারলে দেশে রাজনৈতিক সংস্কার অধরাই থেকে যাবে। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বাস্তবায়নের জন্য তাই প্রয়োজন নতুন প্রজন্মের বিপ্লবী প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি আধুনিক, গতিশীল ও সময়োপযোগী রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠা যেখানে দলের অভ্যন্তরে নেতা নির্বাচনে প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু দলীয় শৃঙ্খলা কঠোরভাবে মেনে চলা হবে। যা দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে দেশের বাকী প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য। ব্যক্তির চেয়ে দল বড় এবং দলের চেয়ে দেশ বড় এই শ্লোগানে দলে অবস্থান নির্ণয় করতে হবে।
সৎ, সাহসী, ধার্মিক, দেশপ্রেমিক ও পরিছন্ন ইমেজের লোকদেরকে দলের সকল পর্যায়ের নেতা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করতে হবে। দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা সমুন্নত রাখা হবে। পরপর দুইবারের বেশী একই পদে নির্বাচিত হওয়াকে নিষিদ্ধ করা হবে। কালো টাকার ব্যবহার, দূর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি প্রশ্রয় দেওয়ার পরিবর্তে তাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচনা করা হবে। নতুন রাজনৈতিক আদর্শে জুলাই-২৪-এর চেতনা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে হবে যার মূলমন্ত্র হবে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। ১৮ কোটি জনগণের সম্পদের সংরক্ষণ, নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার জন্য প্রাপ্তবয়স্ক সকল নাগরিককে সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করে একটি ভলেন্টিয়ার প্রটেকশন ফোর্স তৈরি ও নিয়োগ করা হবে যাতে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের সকল শ্রেণির নাগরিকের নিরাপত্তা অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষিতে নিশ্চিত করা যায়।
গভীর ভূ-রাজনীতিক ও কৌশলগত (Strategic) জ্ঞানসম্পন্ন রাজনৈতিক ও টেকনোক্রাট এক্সপার্টভিত্তিক জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য জরুরী হয়ে পড়েছে যার কাঠামো ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে এখনই চিন্তা ও আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন। ভূ-রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতিকে ঢেলে সাজাতে হবে যাতে জাতি হিসেবে সকলের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত হয় এবং জাতীয় শক্র চিহ্নিত হয়।
জনবহুল এ দেশের সকল নাগরিককে বিনামূল্যে মাধ্যমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং কর্মমূখী শিক্ষা প্রবর্তন করে কারিগরি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা ও চর্চা সম্প্রসারন করতে হবে। জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করতে হলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের চাহিদা অনুযায়ী ভাষা শিক্ষাসহ দক্ষ জনশক্তি রফতানীর কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সকল ধরণের ধর্মীয় উগ্রবাদ ও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত সা¤প্রদায়িকতাকে দল- মত নির্বিশেষে সামাজিকভাবে বর্জন করতে হবে। ফ্যাসিজমের মুলোৎপাটনের জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে ফ্যাসিবাদের সম্প্রসারন এবং অন্যায় ও মন্দ কাজকে সামাজিকভাবে নিন্দা ও পরিত্যাজ্য করার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে সকল ধরনের সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। রাষ্ট্র ও গভর্নেন্স ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে চেক অ্যান্ড ব্যালান্স নিশ্চিত করতে হবে যাতে (Winner Take All) বন্দোবস্তের অবসান হয় এবং ফ্যাসিবাদের পথ রুব্ধ হয়।
অপসংস্কৃতি রোধ করার লক্ষ্যে ২৪-এর চেতনা আকাঙ্ক্ষাকে কোডিফাইড ও সমৃদ্ধ করে আবহমান বাঙলার সংস্কৃতিকে ঢেলে সাজাতে হবে। ২৪-এর বিপ্লবী চেতনা ও আকাঙ্ক্ষার কোডিফাইড রুপ রেখা কেমন হবে তা আরেকটি আলোচনা বা প্রবন্ধের বিষয়। নির্বাচন কমিশন ও আইনের সংস্কার করে একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলসমূহের অঙ্গীকার ও ঐক্যমত্য তৈরি করে নতুন রাজনৈতিক স্থায়ী ব্যবস্থা নির্মাণ করতে হবে।
মনে রাখতে হবে নতুন বাংলাদেশ ও নতুন রাষ্ট্র বিনির্মানের জন্য এ বিপ্লব শুরু হয়েছে মাত্র। অভ্যুত্থান তাই মূখ্য সংষ্কারের মাধ্যমেই স্বার্থকতা পেতে পারে। ফ্যাসিবাদের পতন শুধূ শাসকের পরির্বতন বা নতুন নির্বাচনের জন্য ছিল না।
দলের সর্বস্তরের নেতা নির্বাচনে কাউন্সিল ও ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে এবং পদ বাণিজ্য বন্ধে “নিবার্চন ছাড়া নেতা নয়” আইন করতে হবে। ফ্যাসিবাদ নির্মূলের জন্য নতুন সংবিধানে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়ন, ৭০ অনুচ্ছেদের সংশোধন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পৃথকীকরণ, বিচারপতি ও বিচারক নিয়োগে নীতিমালা তৈরী, প্রতিরক্ষা নীতি প্রনয়ণ এবং দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরির লক্ষ্যে নতুন শিক্ষানীতি প্রনয়ণ ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং মহিলাদেরকে রাষ্ট্র ও সমাজ উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে।
মিডিয়াকে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহায়ক শক্তি হিসেবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে কার্য়করী মিডিয়া হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্বকে সবার ওপরে স্থান দিয়ে আত্মনির্ভরশীল ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রনয়ণ করতে হবে। সকল পেশাজীবী এবং ছাত্র সংগঠনসমূহকে লেজুরবৃত্তির দলীয় রাজনীতি থেকে মুক্ত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে গবেষণাকাজে সম্পৃক্ত করে শিক্ষকদের দলীয় লেজুরুবৃত্তির রাজনীতি আইন করে বন্ধ করতে হবে। ব্যবসা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনীতিতে যে স্বার্থবাদী, বৈষম্যভিত্তিক আইন, নিবন্ধন ও নিয়ম ব্যবস্থার ভূত বসানো হয়েছে তার ব্যাপক সংস্কার ও সংশোধন করে সমতা ও সমসুযোগ ভিত্তিক প্রতিযোগীতার ব্যবস্থা চালু করতে হবে। জনগণকে অন্যায্য কর ও ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত করতে হবে।
উপরোক্ত কাজগুলো বাস্তবায়নের শ্লোগান হবে “এ সমাজ ভাঙ্গতে হবে, বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে হবে”। গতানুগতিক রাজনৈতিক দল ও প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় জনগণের আকাঙ্খা বাস্তবায়ন অনেক কঠিন ও দুরুহ কাজ। কিন্তু জুলাই ২৪ বিপ্লবোত্তর জনসম্পৃক্ততা ও জন আকাঙ্খাকে সামনে রেখে নবীনের ক্ষিপ্রতা ও প্রবীনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ সৎ, সাহসী, ধার্মিক, দেশপ্রেমিক ও পরিছন্ন ইমেজের লোকদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তই কেবল পারে আবহমান বঙ্গ সভ্যতা, ৪৭, ৭১, ৭৫, ৯০ এবং ২৪ এর চেতনাকে বাস্তবায়ন করে একটি আত্মনীভর্রশীল স্বাধীন গর্বিত জাতি নির্মান করতে।
পরজীবি, অসৎ, লোভী ও স্বার্থপর নেতৃত্বের অবসান করে সৎ, সাহসী, দেশপ্রেমীক, ধর্মীয় মূল্যেবোধ সম্পন নতুন নেতৃত্বের অধীনে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তই এর একমাত্র সমাধান। কেবলমাত্র বিপ্লব ছাড়া এই সমস্ত সংস্কার ও পরির্বতন সম্ভব নয় বিধায় বর্তমান উপদেষ্টাদের সরকার পদে পদে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে।
যদি একটি বিপ্লবী সরকারের আদলে এই সরকার পরিচালিত হতে পারতো তাহলে জন-আকাঙ্খা অনুযায়ী রাষ্ট্রের অবকাঠামো তৈরী ও মেরামতের কাজ সহজতর হতো। যেহেতু শুরুতেই এটা পথভ্রষ্ট হয়েছে তাই সতর্কতার সাথে সামনের দিনগুলোতে পথ চলতে পারলে জনগণের আকাঙ্খা পূরণ করা সম্ভব হবে। কেননা শহীদদের নিস্পাপ রক্ত অবশ্যই কথা বলবে।
নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তে আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিজম সম্পর্কে সকল ফ্যাসিবাদ বিরোধী দল ও মতের সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে। কেননা আওয়ামী লীগ যতবারই ক্ষমতায় গিয়েছে ততবারই ফ্যাসিবাদী শাসন চালু করেছে। সেজন্য এই দলটি আদৌও কোন রাজনৈতিক দল নয় মর্মে বিবেচনায় নিতে হবে। এই দলকে গনতান্ত্রিক ভাবে জায়গা দিলে তারা দেশের গনতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংস করবে যারা এই দলকে পুনর্বাসনে সাহায্য করবে তাদেরকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে সকলে চিহ্নিত করা আজ আপামর জনতার দাবী। সুতরাং দেশের গণতন্ত্র বিকাশের স্বার্থে দূর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, কালো টাকার মালিক, টাকা পাচারকারী, গনহত্যা, গুম, খুনের সাথে জড়িত সকল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এবং তাদের দোষর আমলা, ব্যবসায়ী, নেতৃবৃন্দের বিচার ও তাদেরকে সামাজিক ভাবে বয়কট করে নিবার্চনে অযোগ্য ঘোষণা করা ছাড়া এদেশে সুশাসন কায়েম করা সম্ভব নয়।
- এই নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব এবং মুক্তকালের সম্পাদকীয় অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না।
