চট্টগ্রাম মহানগর আদালত থেকে ১,৯১১টি মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি (ডকেট) গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তোলপাড় চলছে। নথিগুলো না পাওয়ায় বিচারিক প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং অপরাধীরা পার পেয়ে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মফিজুল হক ভূঁইয়া জানান, পিপি কার্যালয়ে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে বারান্দায় পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় এসব নথি রাখা হয়েছিল। অবকাশকালীন ছুটির সময় (১৩-৩১ ডিসেম্বর) নথিগুলো হারিয়ে যায়।
রবিবার (৫ জানুয়ারি) কোতোয়ালি থানায় এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
মফিজুল হক ভূঁইয়া (পিপি) বলেন, “নথি রাখার জায়গার অভাবে বারান্দায় রাখা হয়েছিল। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর কক্ষ বরাদ্দের আবেদন করেছিলাম। তবে নথিগুলো কীভাবে হারাল, তা বুঝতে পারছি না।”
কোতোয়ালি থানার ওসি আবদুল করিম বলেন, “জিডির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।”
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “মামলার সিডি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হারালে বিচারিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটি পরিকল্পিত কাজ হতে পারে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করতে হবে।”
নথি হারানোর প্রভাব
- বিচারিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে।
- মামলার সাক্ষ্য ও তদন্ত প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- অপরাধীরা মামলা থেকে সুবিধা নিতে পারে।
নিরাপত্তার ঘাটতি
আদালত ভবনের তৃতীয় তলায় পিপি কার্যালয়, যেখানে সবসময় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ভিড় থাকে। তবে সন্ধ্যার পর নিরাপত্তা জোরদার করার নিয়ম থাকলেও তা কার্যকর হয়নি।
আইনজীবীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এ ঘটনা পরিকল্পিত এবং আসামিরা সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে এটি ঘটাতে পারে।
এই ঘটনায় আদালতপাড়ায় তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মুক্তকাল/এসআর




