Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 14:23 pm
মুক্তবিশ্ব

দণ্ডিত ও পলাতক শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

দণ্ডিত ও পলাতক শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দণ্ডিত ও পলাতক শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

৫ আগস্ট (বুধবার) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে কঠিন ভাষায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি প্রধান করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিটি হুবহু বাংলায় তুলে ধরা হলো।

Advertisement

গণহত্যার দায়ে দণ্ডিত ও পলাতক শেখ হাসিনাকে আজ সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে; সেখানে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ভারত সরকারের কাছে আগেই উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও এই প্রকাশ্য অনুষ্ঠানটির অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর দুঃখ প্রকাশ করছে।

যেদিন বাংলাদেশের জনগণ ‘জুলাই বিপ্লব’-এর দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছে, সেদিন ভারতীয় ভূখণ্ডে শেখ হাসিনার এই কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি চরম অপমান হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত সত্য—যার মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ফ্যাসিবাদী সরকারের হাতে শিশুসহ নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের নৃশংস হত্যাকাণ্ড—তা অস্বীকার করা পলাতক, দণ্ডিত ও গণহত্যাকারী হাসিনার এবং তাঁর অপরাধী সহযোগীদের ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার এক ব্যর্থ প্রচেষ্টা মাত্র। বাংলাদেশের জনগণ অতীতেও এমন জঘন্য প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনও তা অব্যাহত রেখেছে।

জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে আমাদের জনগণ দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ যে, জাতি আর কখনোই ফ্যাসিবাদের সেই অন্ধকার দিনগুলোতে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনোই অন্য কোনো রাষ্ট্রের অনুগত বা ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’-এ পরিণত হবে না। দণ্ডিত গণহত্যাকারী হাসিনা এবং তাঁর মাফিয়া চক্রের জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কোনো স্থান হবে না।

বাংলাদেশ ভারতের সাথে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে একটি গঠনমূলক, পারস্পরিকভাবে লাভজনক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। অত্যন্ত দুঃখজনক যে, ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডিত অপরাধী হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এর বিপরীতে, যেকোনো অজুহাতে তাঁকে গণমাধ্যমের সাথে প্রকাশ্যে কথা বলার সুযোগ দেওয়া আমাদের জনগণের আবেগের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর।

Advertisement