আশুরার (১০ মুহাররম) দিনটি ইসলামী ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ। এই দিনে কিছু কাজ করা যেমন পুণ্য, তেমনি কিছু কাজ থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিচে কোরআন ও হাদীসের আলোকে আশুরার দিনে যেসব কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত, তা সূচিসহ উপস্থাপন করা হলো-
১. বিদআতি রীতি ও কুসংস্কারে লিপ্ত হওয়া
- অনেক স্থানে আশুরার দিনে কুলখানি, বিশেষ রান্নাবান্না, তাজিয়া মিছিল, মাতম ইত্যাদি করা হয়, যা ইসলামে নেই।
- হাদীস:
“جَعلَ اللهُ لِكُلِّ شَيْءٍ حَدًّا، فَلا تَعْتَدُوا الحُدُودَ”
“আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে সীমা নির্ধারণ করেছেন, অতএব সেই সীমা লঙ্ঘন করো না।”
— (সহীহ মুসলিম) - কোরআন:
وَأَنَّ هَٰذَا صِرَٰطِى مُسْتَقِيمًۭا فَٱتَّبِعُوهُ ۖ وَلَا تَتَّبِعُوا ٱلسُّبُلَ
“এটাই আমার সরল পথ, তোমরা এ পথ অনুসরণ করো এবং অন্য পথ অনুসরণ করো না।”
— (সূরা আন’আম, ৬:১৫৩)
২. আত্মবিলাপ ও মাতম করা (গাল কাটা, কাপড় ছিঁড়া ইত্যাদি)
- কারবালার শোক পালন করতে গিয়ে অনেকেই শরীর আঘাত করে মাতম করে থাকেন। এটি ইসলামী শিক্ষার পরিপন্থী।
- হাদীস:
“ليس منا من لطم الخدود وشق الجيوب ودعا بدعوى الجاهلية”
“সে আমাদের দলভুক্ত নয়, যে গালে চপ মারে, কাপড় ছিঁড়ে ফেলে, ও জাহিলিয়াতের আহ্বান দেয়।”
— (সহীহ বুখারী, মুসলিম)
৩. আশুরাকে বিশেষ উৎসব বা ঈদের মতো উদযাপন করা
- আশুরার দিনকে ‘ঈদ’ মনে করে বিশেষ পোশাক, সাজসজ্জা, বা বাহুল্যপূর্ণ রান্নাবান্না করা বিদআত।
- ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন:
“আশুরাকে উৎসব বা শোক দিবস হিসেবে পালন করা রাসূল (সা.) ও সাহাবিদের পদ্ধতি ছিল না।”
৪. কোনো নির্দিষ্ট খাবার বা রসম-রেওয়াজ তৈরি করা
- অনেকে আশুরার দিন “হালুয়া রুটি”, বা বিশেষ রান্না করেন; এটি নবীজির সুন্নাহ নয়।
- ইমাম নববী (রহ.) বলেন:
“আশুরার দিন নির্দিষ্ট খাবার, গোসল, সাজসজ্জা ইত্যাদি করা — সবই বিদআত।”
৫. বানোয়াট হাদীস ও মনগড়া ফজিলত প্রচার করা
- আশুরা নিয়ে কিছু ভিত্তিহীন হাদীস প্রচলিত যেমন:
“যে আশুরার দিন গোসল করবে, সে সারা বছর অসুস্থ হবে না” ইত্যাদি — এগুলো জাল হাদীস। - ইমাম ইবনে কাইয়্যিম (রহ.) বলেন:
“আশুরা সংক্রান্ত অনেক হাদীস মিথ্যা ও বানানো।”




