মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা||
আজ ১৮ সেপ্টেম্বর, বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাঁশ দিবস। ২০০৯ সালের এই দিনে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত অষ্টম বিশ্ব বাঁশ কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটির যাত্রা শুরু হয়।
‘বিশ্ব বাঁশ সংস্থা’র তৎকালীন সভাপতি কামেশ সালাম এ দিবস পালনের প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন। সে সময় প্রায় ১০০টি দেশের প্রতিনিধি প্রস্তাবটিকে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেন।
বাঁশকে ঘিরে যেমন রয়েছে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, তেমনি রয়েছে অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, বাঁশ মূলত কোনো গাছ নয়; এটি ঘাস পরিবারের সবচেয়ে বড় সদস্য।
পৃথিবীতে প্রায় ১৫০ প্রজাতির বাঁশ পাওয়া যায়। সাধারণত গুচ্ছ আকারে জন্মানো এ উদ্ভিদকে বলা হয় বাঁশঝাড়।
বাংলাদেশে ‘বাঁশ’ শব্দটি মাঝে মাঝে রসিকতা বা অন্য অর্থে ব্যবহার হলেও বাস্তবে এটি নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি উপাদান। আসবাবপত্র, গৃহস্থালি সামগ্রী, নির্মাণকাজ থেকে শুরু করে খাদ্য হিসেবে কচি বাঁশের অঙ্কুর ব্যবহার হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। পরিবেশবান্ধব এই উদ্ভিদ দ্রুত বাড়ে এবং মাটির ক্ষয়রোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশ্ব বাঁশ দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো- বাঁশের বহুমুখী ব্যবহার ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে বাঁশ শিল্পকে আরও সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে গড়ে তোলা।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ দিবসকে ঘিরে আয়োজন করা হয় নানা কর্মসূচি। কোথাও প্রদর্শনী, কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা বাঁশের তৈরি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।
এ ধরনের উদ্যোগ শুধু ঐতিহ্য ধরে রাখতেই নয়, বরং গ্রামীণ কারিগর ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও পরিবেশ দূষণের এই সময়ে বাঁশ হতে পারে টেকসই উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার।
তাই বিশ্ব বাঁশ দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়- পরিবেশ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বাঁশের গুরুত্ব অপরিসীম।




