Skip to content
প্রকাশ- November 3, 2026 , 0:30 am
অন্যান্য

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রথম টাইমড আউটের কথা

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রথম টাইমড আউটের কথা

স্পোর্টস রিপোর্টার:  আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের লম্বা ইতিহাসে সেবারই ঘটে প্রথম টাইমড আউটের ঘটনা। ২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার বিশ্বকাপ ম্যাচে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো ‘টাইমড আউট’ সিদ্ধান্তের শিকার হন শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। শ্রীলঙ্কার ইনিংসের ২৫তম ওভারে সাদিরা সামারাবিক্রমা আউট হওয়ার পর ম্যাথিউস ক্রিজে আসেন। তবে হেলমেটের স্ট্র্যাপের সমস্যার কারণে তিনি নির্ধারিত দুই মিনিটের মধ্যে বল মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হতে পারেননি। বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এই বিলম্বের জন্য ‘টাইমড আউট’ এর আবেদন করেন, যা আম্পায়াররা মঞ্জুর করেন। এর ফলে, কোনো বল মোকাবিলা না করেই ম্যাথিউসকে প্যাভিলিয়নে ফিরে যেতে হয়।

এই সিদ্ধান্তের পর ম্যাথিউস ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আম্পায়ার ও সাকিবকে তার হেলমেটের সমস্যার বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে নিয়ম অনুযায়ী, নতুন ব্যাটসম্যানকে আউট হওয়ার পর দুই মিনিটের মধ্যে বল মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়; অন্যথায় ফিল্ডিং দল ‘টাইমড আউট’ এর আবেদন করতে পারে।

Advertisement

এই ঘটনা ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি করে। কিছু বিশেষজ্ঞ ও ভক্তরা সাকিবের সিদ্ধান্তকে নিয়মসম্মত বলে সমর্থন করেন, অন্যরা খেলার চেতনার দিকটি বিবেচনা করে সমালোচনা করেন। এমসিসি (মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব) এই বিষয়ে মন্তব্য করে জানায় যে, আম্পায়াররা নিয়ম অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন।

এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ‘টাইমড আউট’ নিয়মের প্রয়োগ ও খেলার চেতনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

আইসিসির নিয়ম কী বলে?

আইসিসির খেলার শৃঙ্খলা সংক্রান্ত নিয়মে স্পষ্ট বলা আছে:

  • কোনো ব্যাটসম্যান যদি আউট হওয়ার পর ২ মিনিটের মধ্যে স্ট্রাইকে না পৌঁছায়, তাহলে প্রতিপক্ষ দল ‘টাইমড আউট’ এর আবেদন করতে পারে।
  • আম্পায়াররা সেই আবেদনে সম্মতি জানালে ব্যাটসম্যানকে ‘আউট’ ঘোষণা করা হবে।

প্রতিক্রিয়া

এই সিদ্ধান্তের পরপরই ম্যাথিউস ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং সাকিবের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করিনি। আমার হেলমেট সমস্যার কারণে আমি সময় নিয়েছি, এটি আমার দোষ নয়।”

ভারতের সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলি এবং অস্ট্রেলিয়ার মাইক হাসি পর্যন্ত এই ঘটনায় নিজেদের মত দিয়েছেন। কেউ বলছেন, “এটি আইনের অপব্যবহার।” আবার কেউ বলছেন, “নিয়মই নিয়ম, এখানে আবেগের জায়গা নেই।”

Feature Image: BSS

Advertisement

Leave a Comment

Your email address will not be published.