স্টাফ রিপোর্টার : সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পৌনে দুই বছর বাকি থাকতেই পদত্যাগ করলেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শুক্রবার বিকালে রাষ্ট্রপতির সাথে যোগাযোগ করে পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতি গণমাধ্যমকে বলেন, “এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।”
পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করা হয়ে গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বলে দিছি, বুঝে নেন।”
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি নব্বই পরবর্তী বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি, যাকে মেয়াদ পূর্তির আগেই ইস্তফা দিতে হল।
বঙ্গভবনে ৩৯ মাসের দায়িত্বে সাহাবুদ্দিন দুটি জাতীয় নির্বাচন দেখেছেন। তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথ পড়িয়েছেন। নজিরবিহীন এক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে একজন সরকারপ্রধানের দেশান্তরী হওয়ার সাক্ষী হয়েছেন।
গত সাড়ে তিন দশকে আর কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে এতটা ঘটনাবহুল আর বন্ধুর পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করতে হয়নি।
সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, এখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবেন।
পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন সাহাবুদ্দিন
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্রের একটি অনুলিপি সংবাদমাধ্যমে সরবরাহ করেছে বঙ্গভবন। সেখানে তিনি অসুস্থতাকেই ইস্তফা দেওয়ার কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন।
সাহাবুদ্দিন দাবি করেছেন, চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর তার ‘সুদৃঢ় ও ইতিবাচক’ ভূমিকার কারণেই সাংবিধানিক বিপর্যয় এড়াতে পেরেছিল বাংলাদেশ।
বিষয়: রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ।
আমি মো. সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ খ্রি. সনের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ৫ই আগস্ট ২০২৪ সনে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।
নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্যে দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোন সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।
আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।
এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।
মো. সাহাবুদ্দিন
রাষ্ট্রপতি
২৪/৭/২০২৬
