“ইতিহাস, ধর্মীয় বিধান ও সামাজিক বাস্তবতার আলোকে”
পোশাক মানুষের শরীর ঢাকে, কিন্তু কখনো কখনো তার চেয়েও বেশি কিছু প্রকাশ করে। পোশাকের ভাঁজে লুকিয়ে থাকে মানুষের ধর্ম, সংস্কৃতি, সামাজিক অবস্থান, আবহাওয়া, রুচি, এমনকি রাজনৈতিক পরিচয়ও।
বোরকা তেমনই একটি পোশাক, যাকে ঘিরে মুসলিম সমাজে যেমন ধর্মীয় আবেগ রয়েছে, তেমনি রয়েছে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও নারী স্বাধীনতা নিয়ে নানা প্রশ্ন।
কেউ মনে করেন, বোরকা মুসলিম নারীর ধর্মীয় পোশাক। কেউ বলেন, বোরকা ইসলামের নিজস্ব কোনো পোশাক নয়, বরং ইসলাম-পূর্ব বিভিন্ন সভ্যতায় প্রচলিত পর্দার পোশাকেরই পরবর্তী রূপ। আবার কেউ মনে করেন, বোরকা মূলত সংস্কৃতি ও আবহাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি পোশাক, যা পরবর্তীকালে ধর্মীয় অর্থ পেয়েছে।
ইতিহাসের পাতা খুললে দেখা যায়, সত্যটি কোনো এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে নেই। বরং অনেকগুলো সময়, সভ্যতা ও সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে এর দীর্ঘ যাত্রা।
ইসলামের আগেও ছিল পর্দা
নারীর মাথা বা শরীর ঢাকার রীতি ইসলামের আবির্ভাবের বহু আগে থেকেই পৃথিবীর বিভিন্ন সমাজে প্রচলিত ছিল।
প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার মধ্য অ্যাসিরীয় আইনসংহিতায় নারীর পর্দা সম্পর্কে বিধান পাওয়া যায়। খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের এসব আইনে নির্দিষ্ট সামাজিক মর্যাদার নারীকে জনসমক্ষে মাথা ঢাকার নির্দেশ ছিল। একই সঙ্গে দাসী ও কিছু শ্রেণির নারীর পর্দা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞাও ছিল।
এ থেকে বোঝা যায়, প্রাচীন সমাজে পর্দা শুধু ধর্মীয় বিষয় ছিল না। এর সঙ্গে সামাজিক মর্যাদা, শ্রেণি ও পারিবারিক অবস্থানের সম্পর্কও ছিল।
অর্থাৎ নারীর পর্দার ইতিহাস ইসলামের ইতিহাসের চেয়েও পুরোনো।
তবে এখানেই একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। প্রাচীন কোনো সমাজে নারী মাথা ঢাকতেন বলেই সেই পোশাককে আজকের বোরকা বলা যাবে না। কারণ সময়ের সঙ্গে পোশাকের ধরন ও অর্থ বদলেছে।
পারস্যের নারীরাও পর্দা করতেন
প্রাচীন পারস্যেও নারীর আবরণ ব্যবহারের নানা ঐতিহাসিক নজির রয়েছে। আচেমেনীয় যুগ থেকে পরবর্তী পারস্য সমাজে রাজপরিবার ও সম্ভ্রান্ত নারীদের পোশাকের সঙ্গে আড়াল ও পর্দার সম্পর্ক পাওয়া যায়।
ইসলামী যুগে এসে পারস্যে চাদরসহ বিভিন্ন ধরনের আবরণের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হয়। পরে এসব পোশাক ধর্মীয় ও সামাজিক অর্থের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন রূপ পায়।
অর্থাৎ ইসলাম-পূর্ব পারস্যে নারীর আবরণ ছিল, কিন্তু তার মানে এই নয় যে সেই সময়কার পোশাকই আজকের বোরকা। বরং বিভিন্ন যুগে পুরোনো পোশাকের সঙ্গে নতুন ধর্মীয় ও সামাজিক অর্থ যুক্ত হয়েছে।
পোশাকের ইতিহাস এমনই। একটি সংস্কৃতি থেকে অন্য সংস্কৃতিতে যাওয়ার পথে পোশাক বদলায়, তার নাম বদলায়, কখনো তার অর্থও বদলায়।
কোরআনে কি ‘বোরকা’ শব্দ আছে?
না। কোরআনে ‘বোরকা’ নামে কোনো নির্দিষ্ট পোশাকের উল্লেখ নেই।
তবে এখান থেকে যদি কেউ বলেন, ইসলামে নারীর পর্দার কোনো বিধান নেই, সেটিও সঠিক হবে না।
কোরআনের সূরা আন-নূরের ৩০ নম্বর আয়াতে প্রথমে বিশ্বাসী পুরুষদের দৃষ্টি সংযত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর ৩১ নম্বর আয়াতে বিশ্বাসী নারীদের দৃষ্টি সংযত করা, সতীত্ব রক্ষা করা এবং সৌন্দর্য প্রদর্শনে সংযমের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সেই আয়াতে ‘খুমুর’ অর্থাৎ মাথার আবরণ বক্ষদেশের ওপর টেনে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
অন্যদিকে সূরা আল-আহযাবের ৫৯ নম্বর আয়াতে নবীর স্ত্রী, কন্যা ও মুমিন নারীদের বাহ্যিক পোশাক নিজেদের ওপর টেনে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অতএব, কোরআনে ‘বোরকা’ শব্দ নেই, কিন্তু নারীর শালীন পোশাক ও পর্দার বিষয়ে নির্দেশ রয়েছে।
এই পার্থক্যটি বোঝা খুব জরুরি।
হিজাব, নিকাব ও বোরকা এক নয়
আমাদের সমাজে হিজাব, নিকাব, বোরকা ও চাদরকে অনেক সময় একই অর্থে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এগুলো এক জিনিস নয়।
হিজাব একটি বিস্তৃত ধারণা। ইসলামী আলোচনায় এটি পর্দা, আড়াল বা শালীনতার ধারণার সঙ্গে যুক্ত।
নিকাব সাধারণত মুখ ঢাকার পোশাক, যেখানে চোখ খোলা থাকে।
বোরকা অনেক অঞ্চলে মাথা থেকে পা পর্যন্ত শরীর আবৃত করে এবং কিছু ধরনের বোরকায় চোখের সামনেও জালযুক্ত অংশ থাকে।
আবার ইরানের চাদর বা আফগানিস্তানের চাদরি বোরকার সঙ্গে এক নয়।
অঞ্চল ও সংস্কৃতিভেদে একই ধরনের পোশাকের নাম এবং ব্যবহার ভিন্ন হয়েছে।
তাহলে বোরকা কি মুসলমানদের নিজস্ব পোশাক?
ঐতিহাসিকভাবে বোরকাকে মুসলমানদের একক আবিষ্কার বলা কঠিন।
কারণ নারীর পর্দা ও শরীর আবৃত রাখার রীতি ইসলাম-পূর্ব বহু সমাজেই ছিল।
কিন্তু এখান থেকে এই সিদ্ধান্তেও যাওয়া ঠিক হবে না যে বোরকার সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।
ইসলামী সমাজে বোরকা, চাদর, নিকাব, হিজাবসহ বিভিন্ন পোশাক ধর্মীয় অনুশাসনের ব্যাখ্যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
অর্থাৎ পোশাকটির ঐতিহাসিক শিকড় বহু সংস্কৃতিতে থাকলেও মুসলিম সমাজে তার ধর্মীয় অর্থ তৈরি হয়েছে।
এটি অনেকটা ভাষার মতো। কোনো শব্দ এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় গিয়ে নতুন অর্থ পেতে পারে। পোশাকও তেমনি এক সংস্কৃতি থেকে অন্য সংস্কৃতিতে গিয়ে নতুন পরিচয় ধারণ করে।
মরুভূমির আবহাওয়াও কি দায়ী?
মধ্যপ্রাচ্যের প্রচণ্ড রোদ, ধুলা ও বালুর পরিবেশে শরীর, মাথা ও মুখ ঢাকার পোশাক ব্যবহারিক সুবিধাও দিত।
শুধু নারীরা নয়, পুরুষদের মধ্যেও মাথা ও মুখ ঢাকার বিভিন্ন পোশাকের প্রচলন ছিল।
তাই মধ্যপ্রাচ্যের আবরণকে শুধু ধর্মীয় কারণে তৈরি বলা যেমন অসম্পূর্ণ, তেমনি শুধু জলবায়ুর কারণে তৈরি বলা হলেও বিষয়টি অসম্পূর্ণ থাকে।
ধর্ম, সংস্কৃতি ও পরিবেশ অনেক সময় একই পোশাকের ভেতরে এসে মিলেছে।
বাংলার নারীদের পোশাক
বাংলার ইতিহাসেও নারীর পোশাকের দীর্ঘ বিবর্তন রয়েছে।
আমাদের দাদি-নানিদের প্রজন্মের অধিকাংশ নারী বোরকা না পরেও শাড়ি, ওড়না ও ঘোমটা ব্যবহার করতেন। তাঁরা সংসার করেছেন, মাঠে কাজ করেছেন, সন্তান মানুষ করেছেন।
তাই বোরকা না পরা মানেই কেউ ধর্মহীন ছিলেন, এমন সিদ্ধান্ত ইতিহাস বা ধর্ম কোনোটিই সমর্থন করে না।
আবার বর্তমানে কোনো নারী বোরকা পরছেন বলেই তিনি বিদেশি সংস্কৃতি অনুসরণ করছেন, এমন সিদ্ধান্তও গ্রহণযোগ্য নয়।
কারণ সংস্কৃতি কখনো স্থির থাকে না।
সময়ের সঙ্গে পোশাক বদলায়। শহর বদলায়, কর্মক্ষেত্র বদলায়, ধর্মীয় শিক্ষার ধরন বদলায়, মানুষের সামাজিক পরিচয় বদলায়। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে পোশাকও পরিবর্তিত হয়।
বোরকা কি নারীর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা?
বোরকা পরলে নারী নিরাপদ থাকবেন, এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
আবার বোরকা ধর্ষণ বাড়িয়ে দেয়, এমন দাবির পক্ষেও শক্ত প্রমাণ প্রয়োজন।
ধর্ষণ একটি অপরাধ। এর দায় অপরাধীর।
নারীর পোশাককে ধর্ষণের কারণ হিসেবে দেখানো যেমন অন্যায়, তেমনি বোরকাকে ধর্ষণ প্রতিরোধের নিশ্চয়তা হিসেবে উপস্থাপন করাও বাস্তবসম্মত নয়।
কোরআনের পর্দার নির্দেশনাও শুধু নারীর পোশাক দিয়ে শুরু হয়নি। সূরা আন-নূরের ৩০ নম্বর আয়াতে পুরুষদের দৃষ্টি সংযত করার নির্দেশ আগে এসেছে।
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ নৈতিকতার দায়িত্ব শুধু নারীর পোশাকের ওপর চাপিয়ে দিলে ইসলামের সামগ্রিক নৈতিক শিক্ষাই অসম্পূর্ণ হয়ে যায়।
স্বাস্থ্য নিয়ে কতটা সত্য?
বোরকা নিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকির নানা কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে আছে।
এর কিছু সত্যের ওপর ভিত্তি করে, আবার কিছু সম্পূর্ণ অতিরঞ্জিত।
শরীরের অধিকাংশ অংশ সবসময় ঢেকে রাখলে সূর্যের আলো ত্বকে কম পৌঁছাতে পারে। ফলে কিছু মানুষের ভিটামিন ডি ঘাটতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশেষ করে যারা প্রায় পুরো শরীর ঢেকে রাখেন এবং পর্যাপ্ত সূর্যালোক পান না, তাদের ভিটামিন ডি ও হাড়ের স্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
তবে ‘বোরকা পরলেই অস্টিওপোরোসিস হবে’, ‘বোরকা পরলে হৃদরোগ হবে’ কিংবা ‘হিজাবের কারণে মস্তিষ্কে অক্সিজেন কমে যায়’—এ ধরনের সরল দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে হলে আবেগ নয়, গবেষণার ওপর নির্ভর করা প্রয়োজন।
পোশাক যখন রাজনৈতিক প্রতীক
আধুনিক সময়ে বোরকা ও হিজাব শুধু পোশাকের বিষয় হয়ে থাকেনি।
কিছু দেশে এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতীক। কোথাও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বিষয়। কোথাও নারীর ব্যক্তিগত পছন্দ। আবার কোথাও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রকাশ।
ইরানের ইতিহাসে চাদর কখনো ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক হয়েছে, আবার রাষ্ট্রীয় পোশাকনীতির অংশও হয়েছে।
তুরস্কে মুস্তফা কামাল আতাতুর্কের সময় রাষ্ট্রীয় আধুনিকায়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ধর্মীয় পোশাক ও জনপরিসরে ধর্মীয় প্রতীকের ব্যবহার নিয়েও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। পরবর্তী দশকগুলোতে সেই নীতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে।
অর্থাৎ পোশাকের ইতিহাসের সঙ্গে রাজনীতিরও সম্পর্ক রয়েছে।
একই পোশাক একসময় ধর্মীয় পরিচয়, অন্যসময় প্রতিবাদ, আবার অন্য কোনো সময়ে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের প্রতীক হতে পারে।
পোশাক কি মানুষের ধর্মীয় পরিচয়?
পোশাক ধর্মীয় পরিচয়ের অংশ হতে পারে।
কিন্তু পোশাকই মানুষের পুরো ধর্মীয় পরিচয় নয়।
একজন নারী বোরকা পরলেন কি না, শুধু এই একটি বিষয় দিয়ে তার ঈমান, নৈতিকতা বা চরিত্র বিচার করা যায় না।
আবার কেউ বোরকা পরলে তাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করাও সভ্যতার পরিচয় নয়।
ধর্ম যদি ব্যক্তির বিশ্বাসের বিষয় হয়, তাহলে তার পোশাকের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও স্বাধীনতার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ।
সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন ধর্মীয় পোশাক স্বেচ্ছার পরিবর্তে জবরদস্তির বিষয় হয়ে ওঠে।
একজন নারী নিজের বিশ্বাস থেকে বোরকা পরলে সেটি তার অধিকার।
আবার সে বোরকা না পরলে তার ওপর সামাজিক অপমান বা সহিংসতা চাপিয়ে দেওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা
বোরকার ইতিহাস আমাদের একটি সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সত্য শেখায়।
পর্দা ইসলামের আবিষ্কার নয়।
নারীর মাথা ও শরীর ঢাকার রীতি ইসলাম-পূর্ব বহু সভ্যতায় ছিল।
কিন্তু একই সঙ্গে এটাও সত্য—
ইসলাম নারীর শালীনতা ও পর্দার বিষয়ে নিজস্ব ধর্মীয় নির্দেশনা দিয়েছে।
কোরআনে বোরকা শব্দ নেই, কিন্তু পর্দা ও পোশাকের বিষয়ে নির্দেশ রয়েছে।
পরবর্তী মুসলিম সমাজগুলো সেই নির্দেশনাকে নিজেদের সংস্কৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে মিলিয়ে নানা ধরনের পোশাক গ্রহণ করেছে।
তাই বোরকার ইতিহাসকে শুধু ‘ইসলাম বনাম অন্য ধর্ম’ হিসেবে দেখলে ইতিহাসের অনেকখানি অন্ধকারেই থেকে যায়।
এটি আসলে মানুষের দীর্ঘ সভ্যতার ইতিহাস।
মেসোপটেমিয়ার প্রাচীন আইন থেকে পারস্যের রাজদরবার, আরবের মরুভূমি থেকে ইসলামী সভ্যতা, সেখান থেকে দক্ষিণ এশিয়ার ঘর-সংসার—পর্দা তার অর্থ বদলেছে বহুবার।
এক সময় এটি ছিল সামাজিক মর্যাদার চিহ্ন।
কোথাও ছিল সংস্কৃতি।
কোথাও ধর্ম।
কোথাও আবহাওয়ার প্রয়োজন।
কোথাও আবার রাজনৈতিক পরিচয়।
আর আজকের পৃথিবীতে এটি একই সঙ্গে বিশ্বাস, সংস্কৃতি, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও নারী অধিকারের বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি হয়তো বোরকার চেয়েও বড়।
একজন মানুষ কী পরবেন, তার সিদ্ধান্ত কি তিনি নিজে নিতে পারবেন?
যদি তিনি বিশ্বাস থেকে বোরকা পরতে চান, তাকে কি সে স্বাধীনতা দেওয়া হবে?
আর যদি তিনি বোরকা না পরতে চান, তাকেও কি একই স্বাধীনতা দেওয়া হবে?
সম্ভবত একটি সভ্য সমাজের প্রকৃত সৌন্দর্য এখানেই।
কারণ মানুষের মর্যাদা কাপড়ের দৈর্ঘ্যে নয়, মানুষের অধিকার ও বিবেকের স্বাধীনতায়।
বোরকা ইতিহাসের একটি পোশাক। কিন্তু একজন নারী কোনো পোশাকের চেয়েও বড় একজন মানুষ।
– আব্দুর রহিম খান, লেখক ও সাংবাদিক
