Skip to content
প্রকাশ- November 3, 2026 , 1:05 am
অন্যান্য

সাম্য, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন হোক স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার

সাম্য, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন হোক স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার

সম্পাদকীয়: বাংলাদেশের স্বাধীনতা শুধুমাত্র একটি ভূখণ্ডের মুক্তির গল্প নয়; এটি এক অমর আকাঙ্খার নাম, যেখানে সাম্য, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন লুকিয়ে আছে। যুগের পর যুগ ধরে এদেশের মানুষ শোষণ, বঞ্চনা আর পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে সামনে এগিয়ে যেতে চেয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সেই সংগ্রামেরই চূড়ান্ত প্রকাশ।

ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, এবং সর্বশেষ ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ—সবই ছিল এক সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের অংশ। লাখো শহীদের আত্মত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতা আমাদের দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের সুযোগ। কিন্তু স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে এসেও আমরা কি সেই লক্ষ্যে পুরোপুরি পৌঁছাতে পেরেছি?

Advertisement

দারিদ্র্য কমলেও, বৈষম্যের শৃঙ্খল এখনো কাটেনি। ধনী-গরিবের ব্যবধান দিন দিন বাড়ছে, শিক্ষার সুযোগ এখনো শহর ও গ্রামের মধ্যে সমানভাবে বিস্তৃত হয়নি, শ্রমিকেরা এখনো তাদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হন। নারীর ক্ষমতায়ন ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করলেও, আমাদের সমাজ এখনো সম্পূর্ণরূপে সমতার স্তরে পৌঁছাতে পারেনি।

বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের জন্য আমাদের প্রথমে দরকার একটি শক্তিশালী সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো।

প্রতিবছর ২৬ মার্চ আমরা স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করি, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, দেশপ্রেমের শপথ নেই। কিন্তু প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা উদযাপন তখনই হবে, যখন আমাদের সমাজ হবে শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারসম্পন্ন। স্বাধীনতার আকাঙ্খা শুধু অতীতের গৌরবগাথা নয়, এটি ভবিষ্যতের জন্য আমাদের দায়িত্বও।

Advertisement

Leave a Comment

Your email address will not be published.