মুক্তকাল রিপোর্ট: ছাত্রদের নতুন দল আত্মপ্রকাশের আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাহাসে জড়িয়েছেন এর দায়িত্বশীল নেতারা। ফেসবুক স্টাটাস, কমেন্ট- পাল্টা কমেন্টে স্পষ্ট হয়েছে বিভাজনের রেখা। নতুন দলের আহ্বায়ক হিসেবে নাহিদ ইসলামকে সবাই মেনে নিলেও সদস্য সচিব কে হবেন তা নিয়েই মূলত দ্বন্দের শুরু। ছাত্রদল থেকে আসা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের নেতা ফারদিন হাসান ফেসবুক পোস্টে আখতারকে মাইনাস করতে চাওয়ার অভিযোগ তুলেন শিবির থেকে জাতীয় নাগরিক কমিটিতে আসা নেতাদের। এরপর আখতারকে মাইনাস করতে চাওয়ার বিরুদ্ধে ফেসবুকে প্রবল জনমত গড়ে উঠে। নাগরিক কমিটিতে আসা সাবেক শিবির নেতারা আলী আহসান জোনায়েদকে সদস্য সচিব হিসেবে চেয়েছিলেন বলে দাবি করেন অনেকে।
অন্যদিকে সাবেক শিবিরদের একটি অংশ সরব হয় এবং তারা আখতারকে মাইনাস করার অভিযোগ প্রত্যাখান করে ও প্রয়োজনে আহ্বায়ক হিসেবে দেখতে চান বলে ফেসবুকে জানান। শিবির থেকে আসা নাগরিক কমিটির সহ-মুখপত্র মোহাম্মদ হিজবুল্লাহ ও যুগ্ম-আহ্বায়ক আলী আহসান জোনায়েদও এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করে পোস্ট করেন।
এর সাথে যুক্ত হন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদও। তিনি ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলেন তবে কারো নাম নেননি। তার প্রেক্ষিতে যুগ্ম সদস্য সচিব রাফে সালমান রিফাত ব্যক্তিগত আলাপচারিতা ফাঁস করে এর প্রত্যুত্তর দেন। এর সাথে সবারই পোস্ট, কমেন্টে উঠে আসে নেতাদের তুমুল বাহাসের বিষয়টি।
উপদেষ্টা নাহিদ এই বিতর্কে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বিভাজনের রেখা যে ভালোমতই স্পষ্ট হয়েছে তা সামনে আসে। নাগরিক কমিটিতে আসা সাবেক শিবির নেতাদের মাইনাসের জন্যই এমন পরিকল্পিত প্রচারণা বলে অভিযোগ সাবেক শিবির নেতাদের একাংশের আবার আখতারকে মাইনাস করতে সাবেক শিবিরদের প্রচেষ্টাকেই মুল সমস্যা বলে অভিযোগ ছাত্রদল ও বাম পক্ষ থেকে আসা অনেক নেতাদের। এর প্রেক্ষিতেই রোববার নাগরিক কমিটির সাধারণ সভাও বয়কট করেন জোনায়েদ অনুসারীরাসহ বেশ কয়েকজন নেতা।
আগামী ২৪শে ফেব্রুয়ারি নতুন দলের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটতে পারে। তার আগে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করবেন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার এবং আইসিটি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। সম্ভবত আখতারই হতে যাচ্ছেন সদস্য সচিব। তবে শুরুতেই যে বিভাজন সামনে এসেছে, তা সামনের দিনে তাদের ঐক্য কতটুকু অটুট রাখতে পারবে তা দেখার বিষয়।
